জগন্নাথপুরে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলায় কনোরার ঝুঁকি বাড়লেও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মঙ্গলবার করোনা শনাক্ত হওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেসন ওয়ার্ডে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, সাম্প্রতিককালে জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫ শতাধিক মানুষ নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর সহ বিভিন্ন জেলা থেকে জগন্নাথপুরে আসেন। এরমধ্যে শুধু নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছেন দুই শতাধিক লোক। এরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে অবাধে ঘোরাফেরা করছে।
জগন্নাথপুরে প্রথম করোনা রোগী হিসেবে ২৩ এপ্রিল জগন্নাথপুরের উত্তর নাদামপুর গ্রামে ১৮ বছরের এক তরুণ শনাক্ত হন। ১৭ এপ্রিল তিনি নারায়ানগঞ্জ থেকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে এলাকায় ফিরেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা তাঁদের ১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। এরমধ্যে ওই তরুণ করোনা পজেটিভ প্রতিবেদন আসে। পরে তাকে সিলেটের শহিদ সামছুদ্দিন হাসাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় এঘটনার ১৫০ বাড়ী লক ডাউন করা হয়েছে।
২৪ এপ্রিল উপজেলা আশারকান্দি ইউনিয়নের পাঠকুড়া গ্রামের ১৭ বছরের আরেক তরুণের করোনা পজেটিভ রির্পোট পাওয়ার পর তাকে তার বাড়ীতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনিও ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছিলেন। করোনায় আক্রান্তর পর ওই তরুণরে বাড়ীসহ আশপাশের আটটি বাড়ী লকডাউন করা হয়।
এদিকে ২২ এপ্রিল উপজেলা আশারাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ করোনা উপসর্গে মারা যান। স্থানীয় প্রশাসন স্বাস্থ্য বিধি মোতাবেক তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে ১০ বাড়ী লক ডাউন করে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব জানান, জগন্নাথপুর উপজেলা নানা কারণে এখন করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। একদিকে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লোকজন অপরদিকে অন্য জেলা থেকে আগত কৃষি শ্রমিক। তারা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ঝুঁকি বেড়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান, অন্য জেলা থেকে কৃষি শ্রমিক হিসেবে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫শত’ শ্রমিক এসেছেন জগন্নাথপুরে। প্রতিদিনই বাইরের জেলা থেকে কৃষি শ্রমিকরা আসছেন। আমরা তাদেরকে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ভবনে ও গৃহস্থের বাংলা ঘরে রাখছি। তবে অনেক কৃষক আমাদেরকে না জানিয়ে শ্রমিক আনায় তাদের বিষয়টি জানা নেই।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আগত আড়াই শতাধিক লোকসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লোকজন জগন্নাথপুর উপজেলাকে করোনা ঝুঁকিতে ফেলেছে। আমরা দিনরাত তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কাজ করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মধু সুদন ধর বলেন, গতকাল পর্যন্ত আমরা করোনা সন্দেহে ৮৬ জনরে নমুনা সংগ্রহ করেছি। এরমধ্যে তিনজনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা লোকজন আমাদেরকে আতঙ্কে রেখেছে। আমরা উপজেলাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সর্তক হতে আহবান জানাচ্ছি।