জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে মাদ্রাসা ছাত্র সাব্বির মিয়া হত্যার প্রায় দুইমাস পরে মামলার এজাহার বহির্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম সমছু মিয়া (৪৮)। তিনি রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না (তাজপুর) গ্রামের মৃত তাজ উল্লার ছেলে। পুলিশ তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর
থানার এসআই লুৎফুর রহমান জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে শিশু সাব্বির নিহতের হওয়ার ঘটনায় সমছু মিয়াকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নয়। তিনি জানান, নিহত শিশুর তার মা বাদি হয়ে সাতজনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এঘটনার পর পর আসামীরা আত্মগোপনে ছিল। গত ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে হত্যা মামলার সবাই জামিন দিয়েছেন চার সপ্তাহের জন্য।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথপুরের আলমপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মজনু মিয়া (আবু তাহের) ও তার ভাই খালেদ মিয়ার মধ্যে স্থানীয় কুশিয়ারা নদীর দক্ষিণপাড় এলাকায় বাসস্ট্যান্ডের মালিকানার জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন মজনু মিয়ার ছেলে নোমান আহমদ। এই বিরোধের নিস্পতির লক্ষ্যে গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বাসস্ট্যান্ডে বৈঠক বসে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ম্যানেজারের পদ থেকে নোমান আহমদকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এসিদ্ধান্তের বিষয়টি জানাতে স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতা ইজাজুল ইসলাম, মমরাজ মিয়া গংরা মজনু মিয়ার বাড়িতে যান। এসময় মজনু মিয়ার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপযার্য়ে সংঘর্ষে জড়িত পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে হট্টগোল শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসা শিশু সাব্বির মিয়া (১০) আবু তাহের মজনু মিয়ার পক্ষের লোকজনের বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারায়।


