জগন্নাথপুরে চার বাঁধে ধস, দুঃশ্চিতায় কৃষক

আলী আহমদ. জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে চারটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। ধসে যাওয়া বাঁধে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। সোমবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে। মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয় স্থানীয়দের। মাঠভরা ফসল হারানো দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোতে কাজ করেন।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গোড়ারগাঁও ও বেটুখাল নামক এলাকায় বাঁধ ধসে যায়। পরে মসজিদের মাইকে বেড়িবাঁধ রক্ষার ঘোষণা দেওয়া হলে গ্রামের মানুষ বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালান।
কৃষক, এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গোড়ারগাঁও গ্রামের হাওরের ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ২০ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। যার মাধ্যমে সাতটি স্পটে খালের মুখ বন্ধ করার কথা। গত সোমবার রাত সাড়ে আটটায় গোড়ারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের খালের মুখের বেড়িবাঁধ ধসে যায়। গোড়ারগাঁও গ্রামের কৃষকদের নজরে এলে তারা গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে বেড়িবাঁধ রক্ষার আহ্বান জানান। এতে সাড়া দিয়ে গোড়ারগাঁও, মজিদপুর, নাদামপুর, ইজলা গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ করেন। এদিকে ওই রাতে একই ইউনিয়নের নলুয়া হাওরের আওতাধীন পোন্ডার—১ এর ১ নম্বর প্রকল্পের বেটুখালি, ৫ নম্বর প্রকল্পের হালেয়া ও ১৭ নম্বর প্রকল্পের মইয়ার হাওরের কলাইকাঁটা বাঁধ দেবে গেলেও স্থানীয়রা বাঁধ রক্ষায় কাজ চালান।
মঙ্গলবার বিকেলে নলুয়া হাওরের ৫ নম্বর প্রকল্পের দেবে যাওয়া হালেয়া বাঁধ পরির্দশনকালে দেখা যায়, বাঁধ ও মাটির বস্তা দিয়ে পিআইসির লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয়রা কাজে সহযোগিতা করছেন। তবে এ বাঁধটি বর্তমানে বড় ঝুঁকির মধ্য রয়েছে। সঠিকভাবে কাজ না হলেও পানির চাপে যে কোনো সময় ফসলহানির শঙ্কায় আছে বলে কৃষকরা জানান। ওই প্রকল্পের কাজের মান নিম্নমানের বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ইউএনও সাজেদুল ইসলাম, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল, সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ। হাওর পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে দেখা যায়নি হাওরে।
স্থানীয় কৃষক ভুরাখালি গ্রামের লিটন মিয়া জানান, এবার নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সামান্য পানির চাপে বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। খুবই দুঃশ্চিন্তায় আছি আমরা ফসল নিয়ে। এই হাওরে তিনি ৩০ কেদার জমি বোরো জমি আবাদ করেছেন। এখনও ধান পাকেনি। এজন্য শঙ্কায় ভুগছেন এই কৃষক।
চিলাউড়া গ্রামের আরেক কৃষক তোফায়েল আহমদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে আশানুরূপ কাজ না হওয়ায় বড়ই বিপদের শঙ্কা রয়েছে। গত রাত থেকে পাউবোর কোনো কর্মকর্তাকে আমরা হাওরে দেখিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনও সাব এসেছেন। আমরা কৃষকদের পক্ষ তাদের কাছে বলেছি, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে ৫০ থেকে ১ লাখ টাকার কাজ করা হলেও হাওরের কয়েক শ’ কোটি টাকার ফসল রক্ষা পাবে। সময় নেই দ্রুত কাজ করতে হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, বাঁধের কাজের মান ভালো না থাকায় বেশ কয়েকটি বাঁধ ঝুঁকিতে আছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নলুয়া হাওরের ১, ৫, ৬, ৭, ১, ১৭, ২০ সহ কমপক্ষে ১০টি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে আছে। পাউবোর অনিয়ম ও দায়সারাভাবের কারণে বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে। দ্রুত হাওর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, ৫টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কাজ করার জন্য মাটির মেশিন সংগ্রহ করতে চিলাউড়া পন্ডিতায় আছি। এখন নলুয়ার হাওরে যাব।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, রাত থেকেই হাওরে আছি। হাওর রক্ষায় আমরা কাজ করছি।