জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর পৌর শহরের একটি পরিবার ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির যাতায়াত সড়কে এক চাচাতো ভাই পাকা পিলার স্থাপন করে চলাচল বন্ধ করে দেন এদিকে আরেক চাচাতো ভাই বাঁশের বেড়া দিয়ে রাখায় পরিবারটি চলাচল করতে পারছে না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন করেও কোন প্রতিকার মিলছে না।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়,পৌর শহরের হবিবপুর শাহপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহাবের স্ত্রী মোছাঃ আলেকজান বিবি ছেলে মেয়ে নিয়ে কমপক্ষে শত বছর ধরে পূর্বপুরুষক্রমে বসবাস করছেন। একই গোষ্ঠীর আট পরিবার বংশানুক্রমে বসবাস করে আসছেন এ বাড়িতে। ২০১৮ সালে পারিবারিক ব›ণ্টনের মাধ্যমে বাড়ির জায়গা জমি ও সকলের সুবিধার্থে চলাচলের যাতায়াত সড়ক রয়েছে আট পরিবারের। সে মোতাবেক তাঁরা যাতায়াত করে আসছেন। হঠাৎ করে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল মৃত আব্দুল ওয়াবের ভাই মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে রুনু মিয়া সহ তার আত্বীয় স্বজনরা পারিবারিক বন্টন অমান্য করে যাতায়াত সড়কে পাকা পিলার স্থাপন করে যাতায়াত সড়ক বন্ধ করে দেন। বিকল্প জায়গা দিয়ে চলাচলের জায়গাও আরেক চাচাতো ভাই রব্বানী মিয়া বাঁশের বেড়া দিয়ে দেন। ফলে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন আলেকজান বিবির পরিবারটি।
আলেকজান বিবির ছেলে শফিউল আলম চুনু বলেন, আমার চাচাতো ভাই রুনু মিয়া আমাদের শত বছরের পুরাতন যাতায়াত সড়কে পাকা পিলার স্থাপন করে চলাচল বিঘ্নিত করে। অপর চাচাতো ভাই রব্বানী মিয়া তার জায়গা বাঁশের বেড়া দেওয়ায় বিকল্প চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমি আশি বছরের বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী সন্তান কে নিয়ে বেকায়দায় আছি। এছাড়াও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে। বিষয়টি আমি জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পৌর মেয়র কে লিখিতভাবে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রব্বানী মিয়া বলেন, আমরা জায়গার ওপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি বসাতে গেলে রুনু মিয়া আপত্তি জানান। তাই আমি আমার জায়গায় বাঁশের বেড়া দিয়েছি।
রুনু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
জগন্নাথপুর পৌর সভার কাউন্সিলর কামাল হোসেন বলেন, উভয়পক্ষ কে এ বিষয়ে নোটিশ প্রদান করা হলেও রুনু মিয়ার পক্ষের লোকজন না আসায় এ বিষয়ে কোন সুরাহা করা যায়নি।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা একজন উপ পরিদর্শক তদন্ত করছেন। তদন্তের আলোকে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


