জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষার ১৩টি বেড়িবাঁধ ঝুুঁকিতে রয়েছে। এজন্য কৃষকরা বোরো ফসল উত্তোলন নিয়ে চিন্তিত। ঝড়, বৃষ্টি হলে এসব বেড়িবাঁধ মুহূর্তেই ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে ফসলহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি ও ঝড় বৃষ্টি কৃষকদের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় সোমবার বিকেলে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার উপজেলা কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছদরুল ইসলাম, আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব খান জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শংকর রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ প্রমুখ।
সভায় হাওরের ফসল রক্ষায় সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে নিজ নিজ ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ফসল উত্তোলনের আগ পর্যন্ত তদারকি ও সংরক্ষণ করতে বলা হয়। এসব কার্যক্রম মনিটরিং করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি মনিটরিং কমিটি ও উপজেলায় একটি কন্ট্রোলরুম খোলারও সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ করা হয়। এরমধ্যে ১৩ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ রয়েছে ঝুঁকিতে। প্রকল্প গুলো হচ্ছে ১ নং প্রকল্প, ৫ থেকে ১৪ নং প্রকল্প ১৬ ও ১৭ নং প্রকল্পের বেড়িবাঁধ।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নির্মল দাশ বলেন, নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ প্রকল্পের কাজের মান সন্তোষজনক নয়। সামান্য বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল এলে এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ সালিকার বেড়িবাঁধ প্রকল্পের সভাপতি শান্তনা বেগম জানান, তার প্রকল্পে সালিকার বাঁধ খুব ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রকল্পে বাঁশ ও বস্তা ধরা হয়নি। এখন ঝুঁকি দেখে বলা হচ্ছে কিছু বাঁশ বস্তা ফেলার জন্য। যতটুকু বলা হচ্ছে আমি ততটুকু করেছি। কিন্তু তা বাঁধ রক্ষায় পর্যাপ্ত নয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা হাসান গাজী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পসহ সবকটি প্রকল্পে গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


