জগন্নাথপুর ছাত্রলীগের কান্ডারী কারা হচ্ছেন

জগন্নাথপুর অফিস
বশেষে জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ ৩ জুলাই জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে এমন আশাবাদ নেতাকর্মীদের। নেতাকর্মীরাও অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কারা আসছেন ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে। ইতিমধ্যে সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য ডজনখানেক ছাত্রলীগ নেতা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৯ সালে জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি তনুজ কান্তি দেব ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত কমিটিতে জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে মুজিবুর রহমান মুজিব ও সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন জুয়েলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে মুজিব-জুয়েলের  নেতৃত্বে চলতে থাকে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি। গত বছরের ২৬ এপ্রিল তাদের নেতৃত্বে সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিভক্তি ও কোন্দল গ্রুপিং এর বলি হয়ে সম্মেলনের একদিন আগে তা স্থগিত করতে হয়। এরপর জেলা ছাত্রলীগের নেতারা জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করে। ঘোষিত কমিটিতে শাহ সাহেদকে সভাপতি ও রুমেন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কিন্তু উক্ত কমিটি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ছাত্রলীগের তৃণমুল নেতাকর্মীরা জুতা ও ঝাড়ু মিছিল করে।পরে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ এর নির্দেশনায় প্রস্তুতি কমিটি স্থগিত থাকে। অপরদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংষ্কৃতিক সম্পাদক মনোনীত হওয়ার পর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদক ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটি বাতিল করে। এরপর থেকে পুরোপুরি নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ এর সাথে পরামর্শ করে ৩ জুলাই ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আদলে সম্মেলনের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
ইতিমধ্যে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন অ্যাড. শামসুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বানী এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণ, বিশেষ আলোচক থাকবেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী।
ইতিমধ্যে উক্ত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলকে সফল করতে ছাত্রলীগের সন্মেলন প্রস্তুত কমিটির নেতারা জোর প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পদ পেতে করছেন জোর লবিং। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সন্মেলন প্রস্তুত কমিটির সভাপতি শাহ সাহেদ,সিনিয়র সহ-সভাপতি সাফরোজ ইসলাম মুন্না মুল লড়াইয়ে আছেন। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক দুজনের দায়িত্ব থাকার সুযোগ না থাকলেও সাফরোজ ইসলামকে তৃনমুলের কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় পাওয়ায় তার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে শাহ সাহেদ অধিকাংশ সময় সিলেট শহরে বসবাস করায় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা নিয়ে রয়েছে সংশয়। সাধারণ সম্পাদক পদে রুমেন আহমদ,কল্যাণ কান্তি রায় সানী ও আব্দুল মুকিত এর নাম শুনা যাচ্ছে। তিনজনই মাঠে সক্রিয় থাকায় এ পদে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে। এছাড়াও সাফরোজ-সানী,সাফরোজ-রুমেন ও শাহেদ-রুমেন,ও রুমেন- আব্দুল মুকিত পরিষদ হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়াও ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ তানিন,সায়মন হোসেন রুমেন,তফাজ্জল হক সুমন,আবু হেনা রণি, তোহা চৌধুরী,মাহবুব হোসেন,আজমল হোসেন মিঠু,মাহমুদুল হাসান হিবলু,সজিব রায় দুর্জয় এর নাম গুরত্বপূর্ণ পদে আসতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সন্মেলন প্রস্তুত কমিটির সহ-সভাপতি সাফরোজ ইসলাম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে  কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগ ছন্নছাড়া। তাই আমরা সকল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একমত হয়েছি যাকেই নেতৃত্বে দেয়া হবে তা আমরা মেনে নিব। কিন্তু কমিটির কোন বিকল্প নেই।’
ছাত্রলীগের সন্মেলন প্রস্তুত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুমেন আহমদ কে জানান,ছাত্রলীগের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার সকল প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি।
ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর  উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন,‘দলের পরিক্ষিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি করতে হবে। এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অভিভাবক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পরামর্শ নেয়া দরকার। অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণ ও সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী  বলেন,‘ জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি করতে কোন বাধা নেই। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর মতামত ও অভিভাবক সংগঠনের নেতাদের পরামর্শ নিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হবে।