ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা জাগৃতির কর্ণধার ফয়সল আরেপিন দীপন হত্যাকা-ে মিশনপ্রধান হিসাবে অংশগ্রহণকারী মইনুল হাসান শামীম নামক এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা ডিবি পুলিশ। ডিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, দীপন হত্যাকা-ে নিয়োজিত আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) যে ৫ জঙ্গির সমন্বয়ে স্লিপার সেল অংশ নিয়েছিলো ধৃত শামীম ছিল তার দলনেতা। দুর্ভাগ্যজনক তথ্য হলো, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার কালারুখা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামবাসীসূত্রে জানা যায়, শামীম এমনিতে ভদ্র ও বিনয়ী ছিলো। সিলেটের শাহজালাল জামেয়া নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পর থেকে সে শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শামীম ২০১০ সনে হিযবুত তাহরির নামক সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ কলেজের আশেপাশে লিফলেট বিলিকালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলো। পরবর্তীতে ওই মামলায় সে ১ বছরের জামিন নিয়ে ছাড়া যায়। দীপন হত্যাকা-ে আমাদের জেলার এক ছেলের সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী তৎপরতার বিপদ থেকে আমরা মুক্ত নই। সুতরাং আমাদের সতর্ক হওয়ার খুব বেশি প্রয়োজন রয়েছে। অভিভাবকদেরই সবচাইতে বেশি সতর্ক থাকতে হবে সন্তানদের নিয়ে। সন্তানরা কে কোথায় কার সাথে মেলামেশা করছে, কোথায় যাচ্ছে তার সব খবর রাখতে হবে। নতুবা শামিমের মতো জঙ্গি তৎপরত্য়া অংশ নিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করার পাশাপাশি পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীদেরও বিপদের মধ্যে ফেলে দিতে আরও শামীম গোপনে তৈরি হচ্ছে কিনা, ধরার আগ পর্যন্ত তা আমরা জানতেও পারব না। শামীম ২০১০ সালে যখন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অংশগ্রহণের দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলো তখন কীভাবে সে জামিন পেল তাও আমাদের বিষ্মিত করে। এখানে পুলিশের চার্জশিটে কোন দুর্বলতা ছিলো না কি অন্য কোন আইনি ফোকর ছিল তাও চিন্তা করে দেখা উচিৎ। গতকাল গণমাধ্যমে শামীমের যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে যে কারও কল্পনা করতে কষ্ট হবে যে, এমন সুন্দর একটি ছেলে ঠা-া মাথায় মানুষ হত্যা করার মতো কাজে জড়িত হতে পারে। কিন্তু মগজ ধোলাইর তীব্রতা এতোটাই বিধ্বংসী ও সর্বগ্রাসী যে আমাদের নিরিহ ছেলেরা সেই আগুনে পতঙ্গের মতো ঝাপিয়ে পড়ছে। এই উন্মাদনা উদ্রেককারী মগজ ধোলাইর বিরুদ্ধে সমাজ কাঠামোয় শক্তিশালী আদর্শিক জায়গা তৈরি হওয়া খুব জরুরি। আমরা আজ যে সমাজে বাস করছি সেখানে চোখ খুললেই অন্যায়, অন্যায্যতা, দুর্নীতির ভয়াবহ বিস্তার দেখতে পাই্। এখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ আজ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। এরকম দুর্দশাগ্রস্ত সামাজিক অবকাঠামোর মধ্যে বিকল্প আদর্শ হিসাবে জঙ্গিবাদকে রুখতে হলে সর্বাগ্রে সমাজ কাঠামোর মধ্যে বিরাজিত ওইসব উপসর্গকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। শামীমের হাতে নিহত দীপনের বাবা দেশের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকও এই সামাজিক অসুস্থতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নতুবা এক শামীম ধরা পড়বে তার জায়গায় আরও শামীমের জন্ম হবে।
শামিমের পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত ইতিহাস বিবেচনা করে সামান্যতম অনুকম্পা দেখানোর উপায় নেই। কারণ এই শামীম তার দলসহ প্রকাশক দীপনকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে নির্বিকারভাবে। এরা সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক খুন করে যাচ্ছে। শামীম যে ভয়াবহ অপরাধ করেছে, সে যেভাবে অন্ধকার জগতে তলিয়ে গেছে, তার সবিস্তৃত বিবরণ এলাকাবাসীকে জানাতে হবে। তাহলেই এলাকার মানুষ সবকিছু বুঝতে পারবেন। শামীম যে সুন্দর চেহারার আড়ালে কুৎসিৎ ও হীন খুনীর চরিত্র লুকিয়ে রেখেছিলো তা জানিয়ে দিতে হবে সকলকে।
- জগন্নাথপুরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে খেলাফত মজলিসের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা
- তাহিরপুরে মাদক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

