জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট চাইলেন মুকুট

আকরাম উদ্দিন ও লিপসন আহমদ
সুনামগঞ্জ জেলার সকল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার আয়োজনে শনিবার বিকালে শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখত জগলুল। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট, জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফ, জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করীম শামীম, সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ও কুরবাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- গৌরারং ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম, আশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্ আবু ইমানী ।
এছাড়াও বক্তব্য রানে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন চৌধুরী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান রঞ্জিত চৌধুরী রাজন, পলাশ ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম মাস্টার,   
দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস, সদর উপজেলার মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক ও মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর মিত্র।
এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম, শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অবনী মোহন দাস প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল সুনামগঞ্জ শহরকে নান্দনিক শহর হিসাবে গড়ে তোলেছেন। শহরের রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আলহাজ্ব মতিউর রহমান ও আব্দুস সামাদ আজাদের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছি। ৪০ বছর যাবত রাজনীতিতে আছি। বিভিন্ন মানুষের জন্য ভোট চেয়েছি। ভোট ভিক্ষা করেছি। আমার জন্য কোনোদিন যাইনি। ভোট চাইনি। সামনে জেলা পরিষদ নির্বাচন। মানুষের উপকার করার জন্য আমার একটি চেয়ারের প্রয়োজন। একটি চেয়ারের মাধ্যমে মানুষের উপকার করতে পারবো। সেই সব বিষয় চিন্তা করে আমি জেলা পরিষদ নির্বাচন করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বক্তা বলে গেছেন, জেলা পরিষদে যে প্রশাসক আছেন উনি বিগত ৮ বছর যাবত জেলা পরিষদের প্রশাসক। জেলা পরিষদে সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এই টাকা কোথায় যায় কোনো চেয়ারম্যান বলতে পারবেন না।’
আপনাদের পকেটের টাকা দিয়ে যদি সে তাঁর নিজের উন্নয়ন করে, সে যদি তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন করে, তাহলে এইসব লোককে আপনারা যদি আবার নির্বাচিত করেন, তাহলে কি হবে তাঁর অবস্থা সেটা আপনারাই ভাল বলতে পারবেন। আমার আবেদন আগামী ২৮ ডিসেম্বর আপনারা আমাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন। এই আশা ব্যক্ত করছি।’     
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘সুনামগঞ্জের উন্নয়নের নেতৃত্বে নেত্রী একজন ভাল মানুষ চান। সেই নেতৃত্ব আমাদের চোখে ভেসে উঠছে নুরুল হুদা মুকুট।’
সভাপতির বক্তব্যে পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতিতে আজ এই সংবর্ধনা সভা সফল হয়েছে। আমি আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সকলকে আমাদের পক্ষ থেকে সালাম, আদাব ও শুভেচ্ছা জানাই।’
অনুষ্ঠান শুরুতেই ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পৌর কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ।