স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনো পানি নামে নি। হাটু থেকে কোমর সমান পানি শহরের ৭০ ভাগ এলাকার ঘরবাড়িতে। পানির নীচে চুলো, টিউবওয়েল, স্যানিটেশন ও যাতায়াত সড়ক। চৌকির পায়ার নীচে ইটের উপর ইট তুলে মানবেতরভাবে-চরম দুর্ভোগের মধ্যেই জীবন যাপন করছেন পানিবন্দি মানুষজন। নদীর পানির উচ্চতা এখনো না কমায় এবং হাওরগুলো টইটুম্বুর থাকায় এমন কঠিন বিপদে পড়েছেন মানুষজন।
উজানে অর্থাৎ ভারতের মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টি, একই সঙ্গে সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় গত রোববার সকাল থেকেই পাহাড়ী নদী ও সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদী টইটুম্বুর হয়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিয়ে জনপদে ঢুকেছিল পানি। একইভাবে পাহাড়ী নদীগুলোর পানি বিভিন্ন হাওর ও জনপদে প্রবেশ করায় হাওর ও জলাশয় সবকিছুই পানিতে সমান সমান। গত ২ দিন হয় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও এক ঘণ্টা থেমে, দুই ঘণ্টা বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে পানি কমছে খুবই ধীরগতিতে। বিপন্ন হয়ে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ। করোনার ভয়সহ নানা কারণে আশ্রয় কেন্দ্রেও কম যাচ্ছেন
মানুষ। এই অবস্থায় চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বললেন, সরকারি সহায়তা বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে করোনার বিষয়টি মাথায় রেখে মাস্ক প্রদান ও স্বাস্থবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত জানিয়েছেন পৌর এলাকায় ৮০ ভাগ মানুষের ঘরবাড়িতে পানি। তিনি ছোট নৌকায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। ছাতক- দোয়ারাবাজারের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকও তাঁর নির্বাচনী এলাকার বেশিরভাগ মানুষ সংকটে পড়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানরা এই বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, বুধবার বিকাল টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টি হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২১ মিলিমিটার। তবে উজানে বৃষ্টি কম হওয়ায় সীমান্ত নদী যাদুকাটার পানি সকাল ৯ টায় বিপদ সীমার ৯০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
- সরকার কোটা বাতিল করলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ -মোহাম্মদ সাদিক
- লক্ষ্যমাত্রার ২৫ ভাগ ধান-চালও কিনতে পারে নি খাদ্য বিভাগ


