জমি দখলের পায়তারার অভিযোগ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে এক অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের পায়তারার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ফকিরের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মালেকা বেগম বলেন, প্রায় একশ বছর ধরে আমাদের ভোগদখলীয় জমি জবর দখল করার পায়তারা করা হচ্ছে। একই গ্রামের মৃত. জাবেদ আলীর ছেলে ইউনুস আলী আমাদের বসতভিটার ২০ শতক ভূমি বন্দোবস্ত পেয়েছে বলে দাবি করছে।
মালেকা বেগম বলেন, ইউনুস আলী দাবি করছে সে ১৯৯৯ সালে এই ভূমি বন্দোবস্ত পেয়েছে, অথচ মুক্তিযোদ্ধা জীবিত থাকাকালে বা ইতোপূর্বে কোনোদিন সে ভূমির দাবি করেনি, কিংবা এ নিয়ে কথাও বলেনি। বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর পরিবার এখন অসহায় হয়ে পড়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য জামিল খানের ইন্ধনে সে আমাদের ভূমি দখলের পায়তারা করছে। তাদের এসব কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানালে তারা আমার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ভূমি অফিসসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। ইউনুস আলী ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ভয়ে আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ আলী ফকিরের পুত্র নূর নবী, মেয়ে আছমা বেগম, রেহেনা বেগম, ভাই সমশের আলী, নিয়ামত আলী প্রমুখ।
এ ব্যাপারে ইউনুস আলী জানান, আমার বন্দোবস্ত পাওয়া জমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দখলে রয়েছে। আমি আমার ভূমি ফিরে পেতে চাই।
ইউপি সদস্য জামিল খান বলেন, ইউনুস আলী অনেক বছর আগে বন্দোবস্ত পেয়েছে। ২০ শতক ভূমি মুক্তিযোদ্ধার ভোগদখলীয় ভূমিতে আছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার তাদের ভোগদখীয় জায়গার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আমাকে অবহিত করেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।