স্টাফ রিপোর্টার
টানা প্রায় ১০ দিন বৃষ্টি থাকায় আশানুরুপ ক্রেতা না পেয়ে হতাশায় সময় কাটাছিলেন ব্যবসায়ীরা। গত তিন দিন ধরে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের। ঈদকে সামনে রেখে রঙ বেরঙের পোশাকের সমাহারে দোকান সাজিয়ে তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ৩ দিন। এরইমধ্যে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে জমে উঠেছে বিক্রিও, বলছেন ব্যবসায়ীরা।
রবিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষ্যে প্রতিবছরই বাজারে নতুন ডিজাইনের পোশাক আসে এবং এ সময় বেচাবিক্রিও বেশি হয়। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন ডিজাইনের মালামাল সাজিয়ে রেখেছি। কিন্তু জামা-কাপড়, জুতাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণেও এ বছর ক্রেতা কিছুটা কম।
শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এহছান মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী সন্তোষ চন্দ্র দাশ বলেন, ঈদের আর মাত্র ৪ দিন বাকি। গত তিন দিন ধরে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। এর আগে বৃষ্টির কারণে প্রায় দশদিন বিক্রি কম হয়েছে। ক্রেতারা আসতে পারেননি।
তিনি বলেন, বিকেলের দিকে ক্রেতার সংখ্যা বেশী হয়। তিনি বলেন, এমব্রয়ডারি থ্রি পিস ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা দামের আছে। টাঙ্গাইল শাড়ি ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, জামদানী ১০০০ টাকা ১২০০ টাকা, কাতান ১৫০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা দামের রয়েছে।
একই মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী রতন দাশ বলেন, বর্তমানে বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। শাড়ি, থ্রি-পিস, ছিট কাপড় সব কিছুরই দাম বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি কম হচ্ছে ঠিকই কিন্তু একেবারে যে বিক্রি হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। আমরার হাতে ৩ দিন আছে। দিন ভালো থাকলে ভালো বিক্রি হবে।
মা তারা বস্ত্রালয়ের নারী উদ্যোক্তা নিশা পাল বলেন, আমার দোকানে মহিলাদের থ্রি পিস, হাত মোজা, বোরকা সহ বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক আছে। তবে মেঘ বৃষ্টির জন্য বেচাকেনা একদম কম ছিল। আজকে দু একজন করে ক্রেতা আসছেন, আশা করছি ঈদের আগে দুই তিন দিন ভালো বিক্রি হবে।
পৌর সুপার মার্কেটের সূচিত্রা গার্মেন্টসে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। গার্মেন্টসের মালিক বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, আমরা ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের নতুন পোশাক এনেছি। যেমন- নাইরা ১৫০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকা, গারারা ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা, সারারা ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা দামের আছে।
এছাড়াও ছোটমনিদের জন্য রয়েছে প্লাজু, স্কার্ট, পরি ড্রেস, কামিজ। এগুলো ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দামের রয়েছে। গত শনিবার এবং রবিবার বিক্রি ভালোই হয়েছে। আগামী দুই একদিন আশা করি বিক্রি আরও বেশি হবে।
কাপড় ও জুতা কিনতে আসা ক্রেতা মো. মহসিন বলেন, এসেছিলাম পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের পোশাক এবং জুতা কিনতে। এ বছর যা দাম তাতে করে শুধু বাচ্চাদের জন্যই কিনবো। কেননা, নিজেরা নতুন পোশাক না কিনেও ঈদ করতে পারব, কিন্তু বাচ্চারা বুঝবে না। আমরা নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ। আয় বুঝে ব্যয় করা লাগব। এমনিতেই গত বছর বাড়িঘরে রাখা সব কিছু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এ বছর ভেবেচিন্তে কেনাকাটা করব।
সাফেলা গ্রামের বাসিন্দা হুসাইন কবির এসেছেন ঈদের পোষাক সহ নিত্যপণ্যের বাজার করতে। তিনি বলেন, আমরা তিন ভাই। তিনজনের জন্য জিন্স প্যান্ট এবং শার্ট কিনেছি। মোট ৩৫০০ টাকার পোশাক কিনেছি। দামটা অন্য বছরের তুলনায় একটু বেশি দিতে হয়েছে।
ওয়েজখালি এলাকার একজন নারী উদ্যোক্তা শেফালী বেগম। তিনি বলেন, আমি সেলাইয়ের কাজ করি। বাসায় কিছু থান কাপড় রেখেছি। ঈদে সেলাই এবং কাপড় বিক্রি বেড়েছে। আজকে বাজারে এসেছি আরও কিছু থান কাপড় সহ বিভিন্ন কালারের সুতা, বোতাম কিনতে। এই ঈদে ভাবছিলাম তেমন ব্যবসা হবে না। কিন্তু দিনটা ভালোই যাচ্ছে। ব্যবসাও হচ্ছে। বাকি দিনগুলো ভালো গেলে ইনশাআল্লাহ আমার ব্যবসা এই বছর ভালোই হবে।
এদিকে ফুটপাতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুরাতন কাপড়ের দোকান সহ আলফাত স্কয়ারের ফুটপাতে কাপড় সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের ভিড়ও রয়েছে।
হাজী পাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সেবুল মিয়া বলেন, গার্মেন্টস এ গিয়ে এই শার্টটি কিনতে ৭শ’/৮শ’ টাকা লাগবে। ফুটপাতে কিনেছি মাত্র ১৫০ টাকা দিয়ে। কাপড়টাও ভালো এবং দামটাও আছে নাগালের মধ্যে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ঈদকে ঘিরে কাপড় সহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সিন্ডিকেট করে বাড়ালে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা বাজার মনিটরিং করছি।


