পাকনার হাওরের বিলে ঐতিহ্যবাহী পলোবাইচ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালঞ্জ উপজেলায় ফেনারবাক ইউনিয়নে পাকনার হাওরের মাতারগাঁও আগার বিলে ঐতিহ্যবাহী পলোবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে পলোবাইচ উৎসবে তেরানগর চাঁনবাড়ী, মাতারগাঁও, রাজাপুর, মানিগাও, গঙ্গাধরপুর, দৌলতপুর গ্রাম থেকে আসা শতাধিক সৌখিন মাছ শিকারী অংশ নেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পলো, জাকিজাল, ঠেলা জাল সহ নানা ধরনের উপকরণ নিয়ে মাছ শিকারীরা মাছ ধরার মেতে উঠে।
মাছ শিকারীরা জানান, তারা বিভিন্ন এলাকায় পলোবাইচে যান। বিভিন্ন গ্রাম থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অটো রিকশায় ও টেম্পু ও পায়ে হেঁটে পলো বাইচে অংশগ্রহণ করেন।
ভীমখালী ইউনিয়নে তেরানগর গ্রামে আব্দুস সবুর বলেন, আমাদের গ্রামের কয়েকজন পায়ে হেঁটে পলো বাইচে এসেছি। তবে আগের মতো মাছ পাই না। মাত্র দুইটা শৌল মাছ পেয়েছি।
রাজাপুর গ্রামের রামকুমার দাস বলেন, আমাদের গ্রাম থেকে অনেকেই পলো বাইচে এসেছে। মাছ পাই আর না পাই সেটা বড় বিষয় নয়, বাপ—দাদার ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রাখতে পলোবাইচে এসেছি। পলো দিয়ে একটা ছোট বোয়াল পাইছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনের সাথে দেখা হওয়ায় অনেক আনন্দ পাইছি।
গ্রীস প্রবাসী আব্দুল হেকিম বলেন, সবাই কম বেশী মাছ পাইছে, আমি শখ করে এসেছিলাম কিন্তু মাছ পাই নাই। তারপরও অনেক আনন্দ করেছি। নদীতে মাছ নাই, খাল—বিলে মাছ থাকবে কোথায়। তারপরও আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছি এটাই আনন্দ। শতাধিক লোক মাছ ধরতে এসেছে— এটাই প্রমাণ করে মানুষ এখনও গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ভালোবাসে।
ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার বলেন, পলো বাইচ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। কেউ মাছ ধরতে পারুক আর নাই পারুক সবার অংশগ্রহণে উৎসবে আনন্দের কোন কমতি নেই।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনন্দা রাণী মোদক বলেন, মাতারগাঁও গ্রামে পলো বাইচের সংবাদ শুনেছি। সৌখিন মৎস্য শিকারীরা প্রতিবছর কয়েকটি জায়গায় পলো বাইচের আয়োজন করে থাকে। এতে কেউ মাছ পায় কেউ পায়না। তারপরও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে উৎসবে মেতে উঠে হাওর অঞ্চলের সৌখিন মানুষেরা।