জামালগঞ্জে অজানা ভাইরাস কয়েক হাজার হাঁসের মৃত্যু

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ  
জামালগঞ্জে নাম না জানা অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে হাঁস মুরগী। ইতিমধ্যে অজানা ভাইরাসে আক্রান্তের ফলে জামালগঞ্জে বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কটি গ্রামের কয়েক হাজার হাঁস মারা গেছে। অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাঁসগুলো মারা যাবার পর চিন্তায় পড়েছে  কৃষক পরিবারগুলো। খামারী ও পল্লী চিকিৎসকরাও বলতে পারছেন না কেন মারা যাচ্ছে হাঁসগুলো। খামারী ও কৃষকরা জানিয়েছেন, ফার্মের মধ্যে দু-একটা হাঁসের মধ্যে রোগটি দেখা দিলে এক-দুই দিনের মধ্যেই খামারের সকল হাঁস মারা যাওয়া শুরু করে। আর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একজন সহকারী জানিয়েছেন, ভাইরাস জনিত রোগ, যা পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে, সম্ভবত এই কারণেই হাঁসের খামারে মড়ক দেখা দিয়েছে।
উপজেলার সব কটি ইউনিয়নে ছোট বড় মিলিয়ে কয়েক শতাধিক হাঁস ও মুরগীর ফার্ম রয়েছে। নাম না জানা রোগের কারণে আবার অনেক হাঁসের ফার্মে দেখা দিয়েছে আতংক। খামারী ও কৃষক পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েও কোন ধরনের ফল পাচ্ছেন না। রোগে বালাইয়ের কারণে খামারীরা তাদের হাঁস বিক্রি করে ফেলছেন। এর ফলে জামালগঞ্জের হাট বাজারগুলো ও ছোট বড় বাজারগুলোতে চলছে কম দামে হাঁস বিক্রি।
গেল কিছু দিন পূর্বে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের সেকেল মিয়ার ১৪শত হাঁস, সাচনাবাজার ইউনিয়নের সাবাজ মিয়ার ৫ শতাধিক হাঁস, ভীমখালী ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ৭ শতাধিক হাঁস, একই গ্রামের হুমায়ুন কবিরের শতাধিক হাঁস, আকিবুর রহমানের ৭০টি হাঁস, চান্দের নগরের আরুজা বেগমের ৮০ টি হাঁস, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর  কামলাবাজ গ্রামের মাষ্টার মিয়ার সাড়ে ৫ শতাধিক হাঁস মারা গেছে। ফেনারবাঁকের শরীফপুরের একজন খামারী, সুজাতপুর ও রামপুরের একাধিক খামারীরও কয়েকশত হাঁস মারা গেছে। একই ভাবে বেহেলী ইউনিয়ন, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে হাঁসের ফার্মের মধ্যে মড়ক দেখা দিয়েছে।
আবার কোন কোন মুরগীর ফার্মের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানান রোগ বালাই। খামারীদের দাবি দ্রুত এই বিষয় গুলিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জামালগঞ্জের সবগুলি হাঁসের খামার বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্থ জামালগঞ্জের হাঁসের খামারীরা জানিয়েছেন, আমাদের ফার্মের মধ্যে রোগ বালাই দেখা দেওয়ার দুই-একদিনের মধ্যে হাঁস মারা যাওয়া শুরু হয়ে দুই তিন দিনের মধ্যেই সব মারা যায়। আমরা শত চেষ্টা করেও হাঁস গুলিকে বাঁচাতে পারি না। পল্লী চিকিৎসকরাও ধরতে পারছেন না কোন রোগে মারা যাচ্ছে হাঁসগুলি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের সহকারী আব্দুল লতিফ বলেন, রোগ বালাই দেখা দেওয়ার পর আমি কয়েক জায়গায় গিয়ে দেখে এসেছি। আমার স্যার এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার ধারণা পানি বাহিত রোগ, ভাইরাস জাতীয়।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদের ভেটেনারী সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান বলেন, বন্যার পানিতে ও হাওরের পঁচা ঘাস খেয়ে হাঁসগুলো আক্রান্ত হয়েছে। দূরের জায়গাগুলোতে যেতে পারিনি, উপজেলা সদরের আশেপাশে গিয়েছি, মৃত হাঁসগুলোর ময়নাতদন্ত করা হয়েছিলো।