জামালগঞ্জে কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্ট থেকে ভুয়া স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা বিউটি রাণী পালের বিরুদ্ধে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে ভুয়া স্বাক্ষরে উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিউটি রাণী পাল বেহেলী ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নিবারণ পাল, বকুল মিয়াসহ কয়েকজন শ্রমিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন।
শ্রমিকদের দাবি তাদের না জানিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন প্রকল্প চেয়ারম্যান বিউটি রানী পাল। তবে ইউপি সদস্যা বিউটি রানী পাল বলছেন, শ্রমিকদের কোন টাকা ব্যাংক থেকে তিনি তুলেন নি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়েছেন         উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
লিখিত অভিযোগ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের বদরপুর থেকে ইনাতনগর পর্যন্ত সড়ক মেরামতের জন্য অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের মজুরির টাকা জনতা ব্যাংকের সাচনাবাজার শাখায় শ্রমিকদের নিজ নিজ একাউন্ট থেকে উত্তোলন করার কথা। কিন্তু ইউপি সদস্য বিউটি রাণী পাল বিভিন্নভাবে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে শ্রমিকদের একাউন্ট থেকে সেই টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন। ফলে এখন পর্যন্ত শ্রমিকেরা তাঁদের মজুরি পায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা শাহাদাত হোসেন ভূইয়া বলেছেন, সমস্যা থাকতে পারে। অবশ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। শ্রমিকদের স্বাক্ষর ছাড়া ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব নয়। তবে ব্যাংককে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য বিউটি রাণী পাল বলেন,‘ আমি টাকা আত্মসাত করিনি। যাদের টাকা তারাই তুলেছে। আপনারা সাংবাদিকরা খুঁজে দেখেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন,‘ লিখিত অভিযোগের বিষয়ে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক থেকে চিঠির উত্তর পেলেই প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে। যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’