জামালগঞ্জে কাবিটা প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এর আওতায় দুইটি প্রকল্পে কোন কাজ না করেই প্রকল্পের সমুদয় টাকা আত্মসাত করার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ  দায়ের করেছেন প্রকল্পের নিকটবর্তী উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী, কৃষ্ণ কান্ত তালুকদার ও দীনেশ চন্দ্র দাশ।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,সাচনাবাজার ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের পাকা সড়ক হতে মোহাম্মদ আলীর বাড়ীর রাস্তা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের জন্য ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের সভাপতি লুকমান পাঠান আর সেক্রেটারী সায়েম পাঠান। গত অর্থ বছরে পৃথক আরো একটি প্রকল্পে নুরপুর গ্রামের পাশবর্তী সাচনা-রামনগর পাকা সড়ক থেকে জামলাবাজ গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এ কাজের প্রকল্প সভাপতি সায়েম পাঠান ও সেক্রেটারী সেবক চন্দ্র তালুকদার।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্প দু’টির একটির সভাপতি ও অন্যটির সেক্রেটারী আওয়ামী লীগ নেতা সায়েম পাঠান কোন কাজ বাস্তবায়ন না করেই বরাদ্দ উত্তোলন করেন। সময় ক্ষেপণের নামে টাকা আত্মসাতের পায়তারা করছেন তিনি। প্রকল্প দুটির কাজ না হওয়ায় সাধারণ জনগনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন ও কাবিটার টাকা আত্মসাতকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানানো হয়।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সায়েম পাঠান বলেন,‘প্রকল্পের কাজ না করে আমি টাকা আত্মসাত করেছি এই অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকল্পের পাশে পানি থাকায় কাজ করতে পারিনি। কাজ করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে সময় চেয়েছি। খুব শিঘ্রই আমি ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করব। এলাকার লোকজন অহেতুক আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছেন।’
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহদাৎ হোসেন ভূইয়া জানান,  নুরপুর গ্রামের দু’টি কাবিটা প্রকল্পের একটির সভাপতি সায়েম পাঠান ও অন্যটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বেশ কিছুদিন আগে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন এবং কাজ বাস্তবায়নের জন্য সময় চেয়েছেন। এই দুইটি প্রকল্প আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। কাজ না করে টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। সায়েম পাঠান লিখিত দিয়েছেন কাজ না করতে পারলে টাকা ফেরৎ দেওয়ার।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন বলেন,‘জামালগঞ্জেÍ দু’টি কাবিটা প্রকল্পের কোন কাজ হয়নি বলে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।