জামালগঞ্জে চোরের উপদ্রব রাত জেগে গ্রামবাসীর পাহাড়া

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জের উত্তর ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী কামলাবাজ গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় চোরের উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। চোরের হাত থেকে ঘরের জিনিসপত্র ও মালামাল রক্ষার্থে গ্রামবাসী দল বেঁধে রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন। গত সপ্তাহের শুরুতেই উত্তর কামলাবাজের ধানুয়াখালীতে একই রাতে ৪ ঘরে সিঁধ কেটে চুরি হয়েছে। চোরের   উপদ্রব থেকে বাদ যায়নি এলাকার ভিক্ষুকের ঘর পর্যন্ত।
চোরচক্রটি অনেক সময় সিএনজি,মটরসাইকেল,আবার কোন সময় নৌকাযোগে এসে চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছে। চোরেরা ঘরের দামী জিনিসপত্রের পাশাপাশি ঘরের ব্যবহৃত দামী জিনিসপত্র ও ইলেকট্রিক বাতি, ফ্যানসহ যাবতীয় জিনিসপত্র খুলে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের কোন মানুষের চোখে ১০ দিন ধরে ঘুম নেই। গ্রামের বয়স্কদের পাশাপাশি স্কুল কলেজপড়–য়া ছেলেরাও রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে। আজ এই পাড়ায় তো কাল আরেক পাড়ায় এভাবেই পালাক্রমে চলছে চুরির ঘটনা। গত ১০ দিন ছোট বড় মিলিয়ে ১৫ টি দোকান ও বাড়ীতে চুরি হয়েছে। এছাড়া আরো ১০টি ঘরে চুরির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।
ধানূয়াখালীর সবর আলীর ঘর,শহীদ উল্লাহর দোকান ঘর, সত্তার পাশার বাড়ী, মজিদ মিয়ার বাড়ী, জনৈক ভিক্ষুকের ঘর, রফিকুলের ঘর, কালা মিয়ার দোকান, সাক্কু মিয়ার ঘর চুরি হয়েছে। এলাকাবাসী জামালগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করলে থানা পুলিশ প্রতিদিনই এসেই গ্রামবাসীর সাথে টহল দিয়েছে।
উত্তর কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা নূরুল আমিন বলেন,‘ রাতে ভয়ে কারোর চোখে ঘুম নেই। কখন জানি ঘরে চোর এসে সব কিছু নিয়ে যায়। আমরা দল বেঁধে প্রতিদিন পাহাড়া দিচ্ছি।’
স্থানীয় উত্তর কামলাবাজ গ্রামের সংবাদকর্মী হাবিবুর রহমান বলেন,‘সপ্তাহের বেশী সময় ধরে গ্রামবাসীর সাথে আমি নিজেও প্রতিদিন সারা রাত পাহাড়ায় থাকি। আমরা এদিক গেলে চোরেরা অন্যদিকে যায়, কখনো রাস্তা দিয়ে কখনো নদী বা হাওরের দিক থেকে আসে। প্রতিদিনই কোন না কোন ঘরে চুরি হচ্ছে।’
উত্তর কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন বলেন,‘চোর ঠেকাতে গ্রামবাসীর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সেহরি খাওয়ার পর ঘুমাতে যেতে হয়। গ্রামের যুবকদের পাশাপাশি অন্যরা রাতে লাঠি নিয়ে বাড়ি-ঘর পাহাড়া দেন। গত ১০ দিন ধরে এই অবস্থা চলছে।’
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন,‘ গ্রামবাসীর সাথে প্রতি রাতেই থানার লোকজন টহলে থাকছে। চোর চক্রটিকে ধরার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।’