জামালগঞ্জ অফিস
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেছেন,‘বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। যে কোন মূল্যে বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে। বাল্য বিবাহের জন্য ছেলে ও মেয়ের উভয় পরিবারের পিতা-মাতা, কাজী, ইমাম, পুরোহিত, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব সহ যারা বাল্য বিবাহকে সমর্থন করবে সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। বাল্য বিবাহ ও ইভটিজিংকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’
তিনি বলেন,‘স্কুলে বিদ্যা, জমিতে ধান, মাঠে গান। হাওর অঞ্চলে শিক্ষার হার এমনিতেই খুব কম। জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে সুনামগঞ্জকে তুলে ধরেছি। এই এলাকার মানুষ পানি বন্দী, প্রবল ঢেউ, বজ্রপাতে প্রাণহানী ঘটে। তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে হাওর এলাকায় আবাসন শিক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন।
শিক্ষার মান তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন,‘শিক্ষা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজসহ সকলকে একযুগে কাজ করতে হবে। হাওর অঞ্চলের শিক্ষার জন্য শিক্ষকদেরকে আরো দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। কোমলমতি ছাত্রদেরকে বিদ্যালয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করা ও নিজেরা সব সময় পাঠদানের ক্ষেত্রে আরো বেশী করে মনোযোগী করে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাবেন। সব কাজে লাভের আশা না করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন। মেয়েদের শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। মেযেদেরকে অবহেলা করবেন না, ছেলেদের মত তাদেরকেও পড়ালেখায় বেশী করে উৎসাহিত করুন।
মঙ্গলবার সকালে জামালগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মাঠে জামালগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণাকালে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসার সভাপতিত্বে ও ইউপি সচিব অজিত রায়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দিপু, ভাইস চেয়ারম্যান রশীদ আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব রইছ উদ্দিন, সাচনা বাজারের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা ডা. সাফায়েত আহমদ সিদ্দিকী, থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক আফিন্দি, ভীমখালীর চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চৌধুরী, জামালগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফুর রহমান, সহকারী শিক্ষিকা ইয়াসমিন চৌধুরী, জামালগঞ্জ সদরের নিকাহ রেজিস্টার কাজী শরফুল বাশার, সাংবাদিক অঞ্জন পুরকায়স্থ, ওয়ালী উল্লাহ সরকার, বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বালিকা বিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জের শিল্পী রাকিবা ইসলাম ঐশি সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান চৌধুরী, ফেনারবাঁকের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার, বেহেলীর চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার, ভীমখালীর চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষন চক্রবর্তী, প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ, বিভিন্ন ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষার্থীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


