‘জামালগঞ্জে মামুনুল হক কে প্রোগ্রাম করেতে দেবো না’

স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪টায় আলফাত স্কয়ারে ৭টি সংগঠন একসাথে সমাবেশ করে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদ, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, জেলা যুব ঐক্য পরিষদ, জেলা হিন্দু যুব ঐক্য পরিষদ, জেলা কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুব সংঘ ও জেলা তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়।
সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, আমরা সবাই মিলে মিশে সুনামগঞ্জকে শান্তির জেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। আর মামুনুল হকের মতো মানুষকে আমরা প্রতিহত করার জন্য সবাই মিলে ঐকবদ্ধভাবে মোকাবেল করবো।
আমরা কথা দিচ্ছি, জামালগঞ্জের ২১ মার্চের প্রোগ্রাম জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই প্রতিহত করা হবে। কোনো ভাবেই জামালগঞ্জে মামুনুল হকের কোনো প্রোগ্রাম হতে দেয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে অপমান করার জন্য উনার জন্ম শত বার্ষিকীতে পরিকল্পিতভাবে নোয়াগাঁওয়ে হামলা করা হয়েছে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই, সে যেই হোক না কেনো, তাকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিন। আমরা সহযোগিতা করবো।’
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। কিন্তু আজ কতিপয় সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি উসকানি দিয়ে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। এসময় এই হামলার পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম বলেন, এই মামুনুল হক বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যের বিরোধীতা করে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িতাকে উস্কে দিয়েছে। তাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। ২১ মার্চ কোনো ভাবেই জামালগঞ্জে মামুনুল হকের সমাবেশ করতে দেবো না।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেনও বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপিত দ্বিপক ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ^জিৎ চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি স্বপন কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. গৌরাঙ্গপদ দাস, সাধারণ সম্পাদক চন্দন প্রসাদ রায়, জেলা গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. রুহুল তুহিন, সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য্য, জেলা তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির সভাপতি দিলারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক কলি তালুকদার, সাংবাদিক কুলেন্দু শেখর দাস, বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের সদস্য মহানাব্রত চক্রবর্তী ও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল চঞ্চল কুমার লৌহ প্রমুখ।
এর আগে একই দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সুনামগঞ্জ জেলা সংসদ। এসময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি শীলা রায়, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া।