বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়কের মুচিবাড়ি ব্রিজটি। বন্যায় ব্রিজের দুই মুখে মাটি সরে ভয়াবহ গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। গেল ক’দিনে ব্রিজ থেকে উঠানামা করতে গিয়ে গরু-ছাগল গর্তে পড়েছে। গত কয়েক দিনে গর্ত দুটি বড় আকার ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খেওয়াল নেই।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের ওঠানামার দুই মুখে ভয়ংকর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটিতে ভেতরের মাটি সরে গর্তের উপর অংশের অনেক জায়গা টুনকো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যদি পথচারী শিশু-কিশোর দুষ্টুমীর ছলে গর্ত দেখতে সেখানে উঁকি মারে কিংবা গরু-বাছুর গর্তের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় তাহলে ধসে পড়ে ভয়ংকর বিপদ হতে পারে। ব্রিজের অপর প্রান্তের সম্মুখস্থলে সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙে বিশাল খাদে পরিণত হয়েছে।
জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়কের নয়াহালট-চাঁনপুরের মধ্যস্থলে অবস্থিত মুচিবাড়ি খালের এই ব্রিজ দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। ব্রিজে উঠতে গিয়ে অসাবধানতাবশতঃ যাত্রীবাহী কোনো যান যেকোনো সময় গর্তে পড়ে যেতে পারে। ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ব্রিজে উঠার আগে একপ্রান্তের গর্ত দূর থেকে আংশিক প্রতীয়মান হলেও ব্রিজে ওঠার পর অপর অংশের গর্তটি তেমন চোখে পড়ে না। রাতের বেলায় কোন চালক কিংবা পথচারী এই পথ ধরে এগিয়ে আসলে গর্তে পড়ে নিশ্চিত মৃত্যুমুখে পতিত হবার আশংকা আছে এমনটা জানিয়েছেন ক’জন পথচারী।
জানা যায়, হাওরাঞ্চলের দুই জেলা শহর সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম সড়ক এটি। মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা আর ধর্মপাশা থেকে গজারিয়া, মান্নানঘাট ও জামালগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা-সুনামগঞ্জ সংযোগের এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করছে অন্ততঃ অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিন শত শত মোটর সাইকেল, সিএনজি, পিকআপ, অটোবাইক, অটোরিকশা চলাচল করছে এই সড়ক দিয়ে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নয়াহালট-চাঁনপুর অংশের মুচিবাড়ি ব্রিজটির প্রবেশমুখের মাটি সরে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তাতে সম্পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী যান ও পথচারীরা। একমাস ধরে এই অবস্থার সৃষ্টি হলেও ঝুঁকি নিরসনে কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গজারিয়া হাঁটির মো. আব্দুল হাই ও মো. সাহাদ আলী বলেন, ‘ব্রিজের মুখে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বিপদ নিশ্চিত। কোন ড্রাইভার হঠাৎ না জেনে এ সড়ক দিয়ে আসলে গর্তে পড়ে বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে। কয়দিন আগে ব্রিজে উঠতে গিয়ে একটি গরু গর্তে পড়ে যায়। পরে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে গরুটিকে অর্ধমৃত অবস্থায় টেনে তুলে। বেশ কিছুদিন ধরে ব্রিজের অবস্থা খারাপ হলেও তা সংস্কারে কেউ এগিয়ে আসছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।’
একই ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের কবিন্দ্র দত্ত বলেন, ‘এইখানে পড়লে মরণ ছাড়া গতি নাই। গর্তের ভিতরে চাইলে ভয় করে। গরু-বাছুর এই গর্তে পইড়া আধামড়া হইছে এখন মানুষ মরার বাকি আছে। এইডা জরুরী ভিত্তিতে কাজ করা দরকার। গাড়িটাড়ি ঝুঁকি নিয়া চললেও এইডা ঠিক করতে কেউ আগাইয়া আইতাছে না কেনে বুঝতাছি না।’
ব্রিজ সংলগ্ন নয়াহালট গ্রামের এনামুল হক বলেন, ‘ব্রিজে উঠতে গিয়া যে গর্তের সৃষ্টি হইছে সেইডা পরিস্কার মরণ ফাঁদ। যেকোন সময় এই গর্তে গাড়ি পইড়া বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা রাস্তার ব্রিজে এত বড় গর্ত হইলো, কিন্তু সাধারণ মানুষ ছাড়া অন্য কেউ সেইডা চাইয়া দেখতাছে না।’
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি’র)’এর সহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা পানির জন্য কোন কাজ করতে পারতেছি না। পানি শুকালে কাজ শুরু হবে। আমি এখন সেখানে যাচ্ছি। আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাল নিশান টানিয়ে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করে দিয়ে আসব।’
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের সাথে বারবার যোগাযোগ করার পর তিনি ফোন রিসিভ না করে ফোনটা বন্ধ করে দেয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


