জামালগঞ্জ অফিস
জামালগঞ্জে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধি অপরাধ মামলার তদন্ত ফের শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনব্যাপী তদন্ত করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নূর হোসেন বিপিএম। সকালে দক্ষিণ কামলাবাজ থেকে শুরু করে কালীপুর, সদরকান্দি, শরীফপুর, কাজিরগাঁওয়ের বিভিন্ন জায়গায় তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন তিনি।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল জামালগঞ্জ উপজেলার সদরকান্দি গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৃত আব্দুল গনির ছেলে মো. আব্দুল জলিল বাদী হয়ে আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুনামগঞ্জে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়া, সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মফিজ আলীর ছেলে মজনু মিয়া (৬৬) ও একই গ্রামের আবুল খয়েরের ছেলে এনাম উদ্দিন (৬২) সহ রাজাকার, আলবদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করেন। মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল ঢাকাকে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামী ও তার মরহুম পিতা আবুল মনসুর আহমদ (লাল মিয়া) ছিলেন পাকিস্তানী পাক হানাদার বাহিনীর দোসর, ভয়ংকর সন্ত্রাসী, স্বাধীনতা বিরোধি রাজাকার, শান্তি কমিটি, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ঝুনু মিয়া ও তার পিতা লাল মিয়া পাক বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধরমপাশা ও মধ্যনগর এলাকায় ব্যাপক গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন অত্যাচারের শিকার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনেরা রাজাকার লাল মিয়া ও তার পুত্র ঝুনু মিয়া কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধি অপরাধের বর্ণনা দেন। তদন্তকারী দলের কাছে নির্মম নির্যাতনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রাজাকার এই পিতাপুত্রের নেতৃত্বে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তদন্তকারী প্রধানের ধারাবাহিক প্রশ্নের উত্তরে তারা জানিয়েছেন, লঞ্চযোগে রাজাকার লাল মিয়া ও তার যুববয়সী পুত্র ঝুনু মিয়া পাক বাহিনী সঙ্গে নিয়ে ঐ গ্রামগুলোতে আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও স্বপক্ষের যাকে পেয়েছে তাকেই তারা গুলি করে হত্যা করেছে। অনেককে ক্যাম্পে নিয়ে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দিয়েছে। তাদের লালসার শিকার সম্ভ্রমহারা এক নারীও তার ইজ্জত লুণ্ঠনের কথা তুলে ধরেন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে।
তদন্তকালীন সময়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা, মামলার বাদী আব্দুল জলিল, মো. ফারুক মিয়া, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী ও জামালগঞ্জ থানার এসআই মোশারফ হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কমকর্তা নূর হোসেন বিপিএম বলেন, ধর্ষিতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে।

