জামালগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের টাকা জামায়াত নেতার পকেটে!

হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ
সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জামায়াত নেতার  বাড়ির রাস্তা তৈরিতে। সেই টাকার পুরোটাই জামায়াত নেতার পকেটে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
সংশ্লিস্ট সুত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাবিটা বিশেষ ২য় পর্যায়ের বরাদ্দ থেকে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের মল্লিকপুরের রাস্তা হতে কামলাবাজ নুর উদ্দিনের বাড়ীর রাস্তা  উন্নয়ন প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প কমিটির সভাপতি করা হয় কামলাবাজ গ্রামের মৃত মমিন তালুকদারের ছেলে আব্দুল কুদ্দুছকে। প্রকল্প কমিটির সেক্রেটারী করা হয়েছে একই গ্রামের শামসুদ্দিনকে। সদস্য করা হয় আব্দুস ছোবান ও তার পুত্র জিয়াউর রহমান এবং গ্রামের শামসুল ইসলামকে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে প্রকল্পের ফাইলে একই হাতের সকল স্বাক্ষর দেখা গেছে। চলতি জুন মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও আড়াই লক্ষ   টাকার মধ্যে সিকি ভাগ কাজও হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটি একেবারেই নিচ,ু অতিতেও রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টি আর কাবিখাসহ কয়েকটি প্রকল্প দেয়া হয়েছিলো সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দ থেকে। কিন্তু কোন বরাদ্দ থেকেই এই সড়কে মাটি পড়েনি বলে জানিয়েছেন ভীমখালী ইউনিয়নের কামলাবাজ গ্রামের একাধিক ব্যক্তি।
প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা কমর উদ্দিন, জিয়াউর রহমান, সাদেক আহমদ, আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরার এই রাস্তায় পানি থাকে,এবার পানি ভাইঙ্গা আমরা সড়কে উঠছি। শুনছি আমরার এমপি সাবে টেখা দিছইন, কিন্তু কোন কাজ অইছেনা, আমরার এই সড়কে ৫ বছরের মধ্যে এক টেখার কাজও অইছেনা’।
প্রকল্প কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন,‘শুনেছি আমরার এমপি সাব টাকা দিছেন, কিন্তু টাকা কার কাছে আছে জানিনা’।
ভীমখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহ আখতারুজ্জামান বলেন,‘একবার দুবার নয় প্রতি বছর কামলাবাজের জামায়াত নেতার বাড়ীতে, মাদ্রাসায়, মক্তবে রাস্তায় বরাদ্ধ দেওয়া হয়, আ’লীগের কাউকেই কমিটিতে রাখা হয়না, কমিটিতে সব জামায়াতের লোক থাকে, আর লুটপাট করে তারা’।
জামায়াত নেতা ও নোয়াগাঁও অষ্টগ্রাম আলীম মাদ্রাসার সুপার নুর উদ্দিন বলেন ‘পানির জন্য কাজ করতে পারিনি। প্রকল্প সভাপতি আব্দুল কদ্দুছের কাছে টাকা জমা আছে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া বলেন,‘আমি কামলাবাজের পিআইসিসহ আরো দুটি পিআইসিকে ডেকে কাজ করার জন্য দুই সপ্তাহ আগেও তাগিদ দিয়েছি, তারা আমার কাছে সময় চেয়েছেন। কাজ শেষ না করে প্রকল্প না দেখে সম্পুর্ণ বিল কীভাবে দেওয়া হলো? উত্তরে তিনি বলেন, ‘মাননীয় সংসদ বলে দেওয়ায় বিল ছেড়ে দিয়েছি’।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা বলেন,‘ভীমখালীর কামলাবাজের নূর উদ্দিনের রাস্তা উন্নয়নে কাজ হয়নি জানতে পেরেছি,  আমরা তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো’।
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এ প্রসঙ্গে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ না করে এমনকি প্রকল্প না দেখে বিল ছাড়ার ব্যাপারে আমি পিআইওকে বলিনি’।