হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারী হারে ধান ক্রয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণের ঘটনায় ভুল হয়েছে স্বীকার করে মাফ চাইলেন খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি মো. সেলিম হায়দার।
উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ওই ওসিএরএসডির অনিয়ম-দুনীতির সংবাদ জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হলে ওসিএলএসডি সেলিম হায়দারের টনক নড়ে। এতে করে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি নিজে ও তার সিন্ডিকেটের লোকজন দিয়ে সাংবাদিকদের নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। দুইজস জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করা হয়। এই ঘটনার জের ধরে জামালগঞ্জের কৃষক, সাংবাদিক ও সুধী সমাজ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। এক পর্যায়ে ওই দুর্নীতিবাজ ওসিএলএসডি কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন। ওসিএলএসডি তার সংকট নিরসনের জন্য গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী নিয়ে সমোঝতার পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যন হাফিজা আক্তার দিপু, থানার অফিসার ইন-চার্জ আতিকুর রহমান, উপজেলা আ.লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক এম. নবী হোসেন ও সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীমের উপস্থিতিতে ওসিএলএসডি সেলিম হায়দার সৃষ্ট ঘটনার জন্য সাংবাদিকদের কাছে ভুল হয়েছে স্বীকার করে মাফ চাইলেন।
এসময় সাংবাদিকদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, অঞ্জন পুরকায়স্থ (দৈনিক ভোরের কাগজ), তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ (দৈনিক মানবজমিন), আকবর হোসেন (দৈনিক সংবাদ), হাবিবুর রহমান (দৈনিক যুগান্তর), নিজাম নুর (দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ),দিল আহমেদ (দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন), আখতারুজ্জামান তালুকদার (দৈনিক মুক্তাঙ্গ)।
বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্ছনার ঘটনায় ওসিএলএসডি সেলিম হায়দার তাদের কাছে মাফ চেয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে মাফ চেয়েছেন। ঘটনার নিষ্পত্তি হয়েছে।
কৃষকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি ৬ ইউনিয়নের কৃষকদের ধান ক্রয়ের জন্য পৃথক পৃথক দিন ধার্য করেন। সেই সাথে কোন দালাল, ধানের ফড়িয়া, ব্যবসায়ী, বেপারী খাদ্য গুদাম এলাকায় প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য ওসিএলএসডিকে নির্দেশ দেন।
বৈঠকে উপস্থিত থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘ওসিএলএসডি ও সাংবাদিকদের মাঝে সৃষ্ট ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন, ‘স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে সৃষ্ট ঘটনায় ওসিএলএসডি মাফ চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে।’


