জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশি হিন্দু বাড়িতে ঢুুকে মারপিট ও মনসা দেবীর মুর্তি (প্রতিমা) ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে গ্রামের প্রভাবশালী এক পরিবারের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় নারীসহ কয়েজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জামালগঞ্জ থানায় বৃহস্পতিবার অভিযোগটি দায়ের করেন ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের করুণাসিন্ধু তালুকদারের ছেলে খগেন্দ্র চন্দ্র তালুকদার।
অভিযোগে উল্লেখিত আসামীরা হলেন- একই গ্রামের মৃত কাছন মিয়ার ছেলে আলেক চাঁন মিয়া (৫০), তাঁর স্ত্রী মিনা বেগম (৪৫), ছেলে সাকিল মিয়া (২৫), সাজিব মিয়া (২৩), হজর আলীর ছেলে মাসুক মিয়া (৩০) ও তার স্ত্রী সাগরিকা বেগম (২৭)। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলেক চাঁন মিয়া, মিনা বেগম, সাগরিকা বেগম ও মাসুক মিয়াসহ ৪ জনকে আটক করেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের ও ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার কামারগাঁও গ্রামের আহল্লাদ সরকারের ছেলে সুরঞ্জিত সরকারের বিয়ের বৌভাতের অনুষ্ঠান ছিল। এই উপলক্ষে বুধবার রাতে আলোক সজ্জা ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ভাড়া করে জেনারেটর আনা হয়। জেনারেটরের সংযোগ স্থাপনের সময় একটি লাইন উন্মুক্ত থাকা নিয়ে জেনারেটরের মেইকার মামুন মিয়ার সাথে কথা কাটাকাটি হয় প্রতিবেশি আলেক চাঁন মিয়ার ছেলে সাকিল মিয়া ও তার ভাই সাজিদ মিয়ার সঙ্গে। এক পর্যায়ে তারা মামুন মিয়াকে মারপিট করে। এসময় সুরঞ্জিত সরকার ও গ্রামের খগেন্দ্র তালুকদার, দেবব্রত তালুকদার, রতীন্দ্র তালুকদার বাধা দিলে তাদের উপর চড়াও হয় আলেক চাঁন মিয়া, তার স্ত্রী মিনা বেগম, ছেলে সাকিল মিয়া, সাজিদ মিয়া, মেয়ে সাগরিকা বেগম, মেয়ের জামাই মাসুক মিয়াসহ পরিবারের সদস্যারা। পরে খগেন্দ্র তালুকদার, শৈলেন তালুকদার ও মহামায়া সরকারের বাড়িতে হামলা চালায় এবং মনসা দেবীর মুর্তি ভাংচুর করে তারা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাকিল মিয়া ও তার ভাই সাজিদ মিয়ার সাথে কথা বলতে চাইলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার বললেন,‘ কামারগাঁও গ্রামের মনসা মুর্তি ভাংচুরের ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। এই এলাকায় দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে। বর্তমানে গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত আছে।’
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন,‘জেনারেটরের সংযোগ স্থাপনের সময় একটি লাইন উন্মুক্ত থাকা নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারামারির সময় মনসা মুর্তির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গ্রামের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, প্রমাণ মেলেনি তদন্তে
- স্যানক্রেড ও আস্থা প্রকল্পের ফ্রি হেল্থ ক্যাম্প


