জামালগঞ্জে ২৪ জুয়ারীর দণ্ড

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে ২৪ জন পেশাদার জুয়ারীকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৩ জনকে ১০ দিন ও ১ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই কারাদ- প্রদান করেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রসুন কুমার চক্রবর্তী।  
দ-প্রাপ্ত জুয়ারীরা হলো, উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের শুকদেবপুর গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে আব্দুল করিম (৫৫),      
ইসলাম উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়া (৩৫), আব্দুর রহমানের ছেলে কবির উদ্দিন (৩৬), মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৩), ছলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (৩৫),রামনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মশিউর রহমান (২২), আলকাছ উদ্দিনের ছেলে রইছ উদ্দিন (৫৫), আব্দুর রউফের ছেলে কাউসার (৩২),আলকাছ মিয়ার ছেলে হারিস উদ্দিন (৫৩), কিতাব আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৬০), ইসরাইলের ছেলে সাদেক আলী (৫৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার মিয়া (৪০), এখলাছুর রহমানের ছেলে কবির উদ্দিন (৪০), মফিজ আলীর ছেলে আজির উদ্দিন (৪৭),আব্দুল কাদিরের ছেলে আমির উদ্দিন (৪৮),নজরুল ইসলামের ছেলে সেলিম আহমদ (৩১), কুতুব আলীর ছেলে আবুল কালাম (৪০), রমিজ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৫), আজিজুল হকের ছেলে এমরান মিয়া (৩৫), কুরবান আলীর ছেলে নূরুজ্জামান (৪৫), সোনা মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া (৩৫), রেজাউল করিমের ছেলে ছালেহ আহমদ (৪৫), সুজাতপুর গ্রামের তফজ্জুল আলীর ছেলে  রুহুল আমিন (৪৮),শরীফপুর গ্রামের ফিরিজ আলীর ছেলে নূরুজ্জামান (২৫)। আটককৃত ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের প্রত্যেককে ১০ দিন করে ও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় মশিউর রহমানকে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের রামনগর বাজার এলাকার আব্দুল মুকিত উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমীক ভবন থেকে ওই জুয়ারীদের আটক করে পুলিশ থেকে জামালগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত নির্মল চন্দ্র দেবের নেতৃত্বে এসআই জয়নাল আবেদীন, ওয়াহিদুর রহমান,আরিফ রব্বানী,জয়নাল আবেদীন জুয়ার আসর থেকে ২৪ জুয়ারীকে হাতে নাতে আটক করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পরে সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদ- প্রদান করা হয়। দ-প্রাপ্ত সকল জুয়ারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসুন কুমার চক্রবর্তী ও থানার ওসি নির্মল চন্দ্র দেব।
আব্দুল মুকিত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমদ ভুইয়া জানান, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান ও রফিক মিয়া স্কুলে খেলার কথা বলে শিক্ষকের কাছ থেকে ভবনের চাবি নিয়েছেন। জুয়া খেলার বিষয়টি তিনি জানেন না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, তিনি অসুস্থ মাকে নিয়ে সিলেটে ছিলেন। বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগটি সঠিক নয়। তিনি জুয়ার আসরের সঙ্গে জড়িত নই।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অপর সদস্য রফিক মিয়া  জানান, জুয়ার আসরের বিষয়টি তিনি জানেন না। স্কুলের হেডমাস্টার বিষয়টি ভালো করে বলতে পারবেন।