বিন্দু তালুকদার
জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের ইউনিয়ন ‘জামালগঞ্জ সদর’ ইউনিয়ন হিসাবে পরিচিত ছিল। উপজেলা সদরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদী ইউনিয়নকে দুইভাবে বিভক্ত করেছে। এক অংশ দক্ষিণে, অপর অংশ উত্তরে। গত ২৮ জানুয়ারি এই ইউনিয়ন পরিষদকে ভেঙ্গে জামালগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন নামে পৃথক দু’টি ইউনিয়ন গঠন করে গ্রেজেট প্রকাশ করা হয়।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মোট গ্রাম রয়েছে ২০টি, আয়তন ২০.০৫ বর্গ কিলোমিটার, মোট জনসংখ্যা ৩১,৫৭৫ জন, মোট ভোটার ১৭ হাজার ২৬৮ জন।
ইউনিয়ন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, সদস্যা পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মেরুকরণ ঘটে। সুরমা নদীর উত্তর-দক্ষিণ অংশের নেতাকর্মীরা ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পৃথকভাবে। এই দুই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য সদ্য সমাপ্ত ৬ষ্ঠ ধাপে তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জামিল আহমদ জুয়েল। বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহন নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহনের ভাতিজা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার সাজিব চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে এলাকায় নিয়মিত প্রচারণা করছেন।
বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম এখন ঘোষণা হয়নি। তবে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান সফিক, উপজেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি জুয়েল আহমদ ও বিএনপি সমর্থক সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার সাজিব।
স্থানীয় ভোটারা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহন, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত জামিল আহমদ জুয়েল, বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী সফিকুর রহমান সফিক, জুয়েল আহমদ ও সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার সাজিব, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে জালাল উদ্দিন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহন ও তার ভাতিজা বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার সাজিবকে নিয়ে পুরো ইউনিয়নে নানা আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। চাচ-ভাতিজা দু’জনই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহন বলেন,‘আমি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। এলাকার সকল শ্রেণি পেশার ভোটারগণ আমার সাথে আছেন। এলাকার অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। তাদের দোয়া ও আশির্বাদে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করব। আমার ভাতিজা সাজিব নির্বাচন করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সে আমার প্রতিদ্বন্দ্বি হবে না। শতভাগ নিশ্চিত আমিই নির্বাচন করব।’
তবে সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার সাজিব বলেন,‘আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই। এলাকায় নিয়মিত প্রচারণা করে যাচ্ছি। সাধারণ ভোটারগণ আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছেন। আমি বিএনপির দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।’ দলীয় মনোনয়ন না পেলে এবং চাচা বর্তমান চেয়ারম্যান মোহন নির্বাচন করলে তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, এবিষয়ে এখনই কোন কিছু বলা যাবে না। সময় এলেই সবকিছুই বলা যাবে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জামিল আহমদ জুয়েল বলেন,‘ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থনের আমি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি। দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। দলের নেতাকর্মীসহ সবার কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। ঈদের আগেই আমাদের ইউনিয়নে পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানতে পেরেছি। ’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক বলেন,‘দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন উপজেলা বিএনপির কাছ থেকে তিনজন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করা হয়নি। তফসিল ঘোষণা হওয়ার আমরা স্থানীয়ভাবে প্রার্থী বাছাই করব।’
- ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৪
- প্রসঙ্গ: ছাতক, দোয়ারা ও মধ্যনগর আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি- জেলা সভাপতি-সম্পাদকের ভিন্ন বক্তব্য


