মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদীর বিরুদ্ধে আদালতের মামলা দায়েরের ঘটনাটি এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য কঠোর বার্তা বহন করবে বলে আমরা মনে করি। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর বিচারিক আদালতে জাল দলিল করে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী রিংকু দাসের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতে জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। বিষয়টির তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের দেশে মিথ্যা মামলার কথা প্রায়ই শোনা যায়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এরকম মিথ্যা মামলা করা আমাদের দেশে সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এরকম মিথ্যা মামলা দায়েরকারির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে কেউ তেমন করে আগ্রহী হন না। ফলে জালিয়াতচক্র নিজেদের মিথ্যা ফাঁদ তৈরিতে কখনও দুইবার চিন্তা করে না। এরকম এক প্রেক্ষাপটে জালিয়াতির অভিযোগে প্রমাণিত দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনাটি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এতে এরকম মিথ্যা মামলা দায়েরকারীরা কিছুটা হলেও সতর্ক হবে বলে আমরা আশা রাখি। মামলার সার্থকতা ঠিক এই জায়গায়ই। প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ বিচারকের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। এ থেকে বিচারকদের দায়িত্ববোধ ও সামাজিক কর্তব্য পরায়ণাতার জায়গা সম্পর্কেও একটি ইতিবাচক ধারণা পাওয়া যায়।
ভূমি সংক্রান্ত বিষয়াদি ও নারী নির্যাতন আইনে বেশি মিথ্যা মামলা হয় বলে সকলের ধারণা রয়েছে। যাদের উপর এরকম মিথ্যা মামলা দায়ের হয় তারা ছাড়া বাইরের কেউ এর জ্বালা যন্ত্রণা বুঝতে পারবেন না। সামাজিকভাবে অপদস্ত হওয়াসহ নানাবিধ জটিলতার সম্মুখীন হন তারা। মামলা চালাতে গিয়ে টাকা খরচের বিষয়টি তো আরেক বিড়ম্বনা। অনেকেই এরকম ঘটনার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। কিন্তু পরে তারা নির্দোষ প্রমাণ হলেও আরও বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়ার দিকে অগ্রসর হন না। যারা মিথ্যা মামলা করে তারা সমাজের অত্যন্ত ধুরন্ধর ও কুটিল চরিত্রের লোক। সমাজকে কলুষিত ও বিশৃঙ্খল করতে এদের ছলচাতুরির অভাব হয় না। মূলত গ্রামীণ সমাজে এইসব ধান্দাবাজরা বেশ প্রভাবশালী হয়ে থােেক। নিরীহ মানুষ এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায়। বলা যায় আমাদের সমাজের শরীরে এইসব ধুরন্ধররা বিষাক্ত ক্যানসার কোষের মতো ছড়িয়ে গেছে। এদের হাত থেকে নিস্তার পেতে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ মনে মনে প্রতিনিয়ত আকুতি জানালেও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবে এরা বহাল তবিয়তেই থাকতে সক্ষম হয়। আলোচ্য রায়টি অন্তত একজন জালিয়াতের চেহারা সকলের সামনে উন্মোচিত করেছে। এই ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেকে জালিয়াত বা প্রতারকদের বিরুদ্ধে অনুরূপ আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহসী হয়ে উঠবেন।
মামলা মোকদ্দমা চূড়ান্ত স্তর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া আমাদের দেশে বেশ জটিল, ব্যয়বহুল ও মারপ্যাঁচে ভরা। আমাদের সমাজে অনেক সময়ই ‘বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে’। অথচ আইনি সুরক্ষা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার পেতে কেন পদে পদে এত প্রতিবন্ধকতা, প্রসঙ্গিকভাবেই প্রশ্নটি উত্থাপিত হওয়া দরকার। স্বাধীন দেশের নাগরিকরা যাতে একেবারে বিনা ঝঞ্ঝাটে সুবিচার পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা কায়েমের আকাক্সক্ষা সকলের। রাষ্ট্রকে এই দিকে মনোযোগী হতে হবে এবং এমন এক বিচার ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেখানে সকলে সহজে এবং কম সময়ে সুবিচার পেতে সমর্থ হন। এই ব্যবস্থা চালু করা গেলে সহজে কোনো প্রতারক মিথ্যা মামলা করার সাহস পাবে না।
- স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা/ দুদক কে তদন্তের নির্দেশ
- চন্দ্রাহত শহরের মানুষেরা ভালো নেই


