সদর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামে জুনেদ আহমদ নামের এক যুবক খুন হয়েছেন গত ১ সেপ্টেম্বর । কে তাকে কী কারণে খুন করেছে সেই তথ্য জানা না গেলেও ইতোমধ্যে জুনেদ আহমদের শ্যালক আব্দুল মতিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আব্দুল মতিনের গ্রেফতার হওয়াকে বিবেচনায় নিলে এই খুনের পিছনে কোন পারিবারিক বিরোধ কাজ করতে পারে বলে অনুমান করলে অসংগত হবে না। এ ধরনের সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠেও আসছে। মাইজবাড়ি-বদিপুর এলাকায় জুনেদ আহমদ ছাড়াও ইতোপূর্বে আরও এক যুবক খুন হয়েছিলেন। ওই জনপদের নিকটবর্তী ষোলঘর এলাকায় খুন হয়েছিলেন এক গৃহবঁধু। কাজির পয়েন্টেও খুন হয়েছিলেন আরেক যুবক। এইসব হত্যাকা- এই জেলা শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে যথেষ্ট পরিমাণে কলুষিত ও অশান্ত করেছে।
মাইজবাড়ি-বদিপুরের অধিবাসীরা বুধবার শহরে মানববন্ধন করে জুনেদ হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছেন। একটি এলাকায় সময়ের ব্যবধানে দুই দৃুইটি হত্যাঘটনা ওই এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতংক তৈরি করেছে নিশ্চয়ই। সুনামগঞ্জ শহর বা সদর উপজেলার লোকজন খুব একটা খুন-খারাবি দেখে অভ্যস্ত নন। অল্পতেই তাই তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন। নাগরিক সমাজের এই অল্পতে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠা খারাপ কিছু নয়, বরং এটি অপরাধবিমুখ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো এই অল্পতে আতংকিত হওয়া নাগরিক সমাজের মনে স্বস্তিভাব ফিরিয়ে আনা। এজন্য জুনেদ খুনের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুগ বিচার করা অবশ্য কর্তব্য। সুতরাং মাইজবাড়ি-বদিপুরের নাগরিক সমাজ শহরে এসে যে দাবির কথা জানিয়ে গেছেন আমরা তাঁদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে একই দাবির পুনরাবৃত্তি করছি। মানুষের এই আকুতি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রত্যাশায়। কোন অচেনা খুনী একই সাথে বসবাস করছে এটি চিন্তা করলেই যে কারও মনে ভয় ধরে। এই ভয় কাটানোর জন্যই খুনীকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কারাগারে রাখতে হবে বিচারিক প্রক্রিয়ার সামনে দাঁড় করানোর জন্য। আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব জুনেদ হত্যাকারীদের নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষের সমাজ থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবেন।

