স্টাফ রিপোর্টার
শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে ফেলা হয়েছে। বুধবার দুপুর দেড় টায় এই ঘটনা ঘটে। গত ৩১ জুলাই এই শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী জর্জেচ মিঞা।
শহীদ মিনানের ভিত্তিপ্রস্তর কারা ভাঙল, কেন এটা ভেঙে ফেলা হলো, এমন প্রশ্নের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে। তবে ফলক ভাঙার কয়েক মিনিট পর ওখানে গিয়ে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী (স্কুল ড্রেস পড়া) ওখান থেকে দৌড়ে দেয়াল টপকে পালাচ্ছে।
তবে ভিত্তিপ্রস্তর ভাঙার পর সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে কিছু শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধুকণ্ঠে বলেন,‘গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা এটা সরানোর জন্য অনুরোধ করছি, নানা কর্মসূচি পালন করছি, তবুও সরানো হচ্ছিল না। তাই ছাত্ররা এটা ভেঙে ফেলতে পারে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুল হক মোল্লার কাছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। কারা ভেঙেছে, কোন সময় ভেঙেছে আমার জানা নেই। আমাদের কোন ছাত্ররা এটা ভাঙেনি। সব ছাত্ররাই শ্রেণিকক্ষে ছিল, বুধবার এধরণের কোন পরিস্থিতিও ছিল না’।
এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘জেলা প্রশাসক, পৌরসভার মেয়রসহ সংম্লিষ্ট কমিটি সরকারি জুবিলীর মাঠে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসকের অনুরোধে আমি অর্থ বরাদ্দ ও সরকারি জুবিলীর মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। কিন্তু এ নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়ায়, আলোচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বিবৃতিও দিয়েছিলাম। একইভাবে দেখেছি জেলা প্রশাসকও পত্রিকায় তার বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপরও বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে সবার মূল্যবোধের উপর আঘাত করা কোনভাবেই ঠিন হয়নি। এর পেছনে বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি এবং মৌলবাদীদের হাত রয়েছে। প্রশাসন নিশ্চয়ই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবেন।’
- ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত শতাধিক
- প্রসঙ্গ: বঙ্গঁবন্ধুর খুনী আজিজ পাশা লামারসুলগঞ্জ বাজারে প্রতিবাদসভা


