জেএসসিতে জেলায় ভাল করেছে মেয়েরা

সজীব দে
জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সুনামগঞ্জ জেলায় পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এবার ৩২ হাজার ৭ শ’ ৫৩ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার ১ শ’ জন। মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৪ হাজার ৪ শ’ ৪০ জন ছেলে এবং ১৮ হাজার ৩ শ’ ১৩ জন মেয়ে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮২ জন ছেলে এবং ১৭ হাজার ১৮ জন মেয়ে। অপরদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ১ শ’ ৪২ জন ছেলে এবং ২ শ’ ৬২ জন মেয়ে। সুনামগঞ্জে পাশের হার ৯২.৯৩ শতাংশ এবং জিপিএ- ৫ পেয়েছে ৪০৪ জন শিক্ষার্থী। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সবার চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শতভাগ পাশ এবং সবচেয়ে বেশী জিপিএ- ৫ পায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় থেকে ২৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ৫১ জন। জিপিএ- ৪ পেয়েছে ১০০ জন, জিপিএ- ৩ পেয়েছে ৭১ জন ও জিপিএ- ২ পেয়েছে ১০ জন শিক্ষার্থী।
এছাড়াও সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যলয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩৬ ও অনুত্তীর্ণ ৩ জন। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ৪১ জন। পাশের হার ৯৮.৭৪ শতাংশ। সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯৬ ও অনুত্তীর্ণ ৭ জন। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২৬ জন। পাশের হার ৯৬ শতাংশ। এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯৩ ও অনুত্তীর্ণ ৪৮ জন। পাশের হার ৮৫.৯২ শতাংশ। বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ ১৩১ জন। পাশের হার ৭৭.০৬ শতাংশ। লবজান চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৪ এবং অনুত্তীর্ণ ১৪ জন। পাশের হার ৯১.৯৪ শতাংশ। আব্দুল আহাদ শাহিদা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৪ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১২৮ জন। পাশের হার ৮৮.৮৯ শতাংশ। আলহাজ¦ জমিরুন নুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৫০ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২৪১ জন। পাশের হার ৯৬.৪০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। অষ্টগ্রাম রাস গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০৫ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৯৫ জন। পাশের হার ৯০.৪৮ শতাংশ। বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল থেকে ৪ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৪ জন। পাশের হার শতভাগ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১ জন। বিরামপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৭ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৩৮ জন। পাশের হার ৮০.৮৫ শতাংশ। চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৪ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৯০ জন। পাশের হার ৯৭.৯৪ শতাংশ। চৌদ্দগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭১ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৬৮ জন। পাশের হার ৯৫.৭৭ শতাংশ। হামিদুল হক জুনিয়র স্কুল থেকে ৩৮ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৩৮ জন। পাশের হার শতভাগ। হাজী আব্দুস সাত্তার এন্ড মরিয়ম স্কুল থেকে ১৪৫ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৩৫ জন। পাশের হার ৯৩.১০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। হাজী লাল মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১৭ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২০৬ জন। পাশের হার ৯৪.৯৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন। জয়নগরবাজার হাজী গনি বক্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪০ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২২১ জন। পাশের হার ৯২.০৮ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন। কৃষ্ণনগর হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৩০ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৩১৮ জন। পাশের হার ৯৬.৩৬ শতাংশ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২ জন। মাইজবাড়ি প্রাইমারি স্কুল থেকে ১২১ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১০৮ জন। পাশের হার ৮৯.২৬ শতাংশ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১ জন। মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৮৭ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২৭৪ জন। পাশের হার ৯৫.৮৭ শতাংশ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২ জন। নারায়ণতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৭৭ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২৬৫ জন। পাশের হার ৯৫.৬৭ শতাংশ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২ জন। রঙ্গারচর হরিণাপাটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৮ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৪২ জন। পাশের হার ৯৫.৯৫ শতাংশ। শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০০ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৯৯ জন। পাশের হার ৯৯ শতাংশ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১ জন। শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৬২ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৬০ জন। পাশের হার ৯৬.৭৭ শতাংশ। সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২১ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২০৫ জন। পাশের হার ৯২.৭৬ শতাংশ। ভৈসবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৬ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৬ জন। পাশের হার শতভাগ। ইয়াকুব উল্লা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪৭ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৯৬ জন। পাশের হার ৬৯.৩৫ শতাংশ, লুমিনাস একাডেমি ১০৫ জন অংশ নিয়ে সবাই পাশ করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ জন।
এদিকে জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১২৬৫জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১১১৫জন। পাশের হার ৮৮.১৪। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪জন। এদিকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৭০ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৬৫জন। পাশের হার ৯২.৮৬।
তাহিরপুর উপজেলায় ২৭৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৭৮ জন পাশ করেছে। পাশের হার শতকরা ৮৬.২৫। এ প্লাস পেয়েছে ১৮ জন।
জেএসসিতে এ প্লাস পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো বাদাঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ৪,এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয় ১, হাজী ইউনূছ উচ্চ বিদ্যালয় ১, আইডিয়াল মিশন ৬, ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২, তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৩ ও আনোয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ১। জেডিসিতে ৩০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৭ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৭৬.৯৫ জন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় জেএসসিতে ৭১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। ২৭২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৫১৮ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৯১.৩০। জেডিসি পরীক্ষার ৩৪০ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয় ৩১৫ জন। পাশের হার ৮২.৮৯।
জগন্নাথপুরের ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ হাজার ৮শ’ত ২৯জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৬শত ৭৪ জন জন। জিপিএ-৫ এসেছে ২৫টি। পাশের হার ৯৪.৫২। অপরদিকে ১৮টি মাদ্রাসার থেকে ৮শত ৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উর্ত্তীণ হয়েছে ৮শত জন। পাশের হার ৯১.৮৪।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২ হাজার ২শত ৩৮ জন জেএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৯শত ৯৫জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন। উপজেলার মধ্যে যে সকল উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫পেয়েছে, জয়কলস উজানীগাও রশিদিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় পেয়েছে ৭টি, ডুংরিয়া উচ্চ স্কুল এন্ড কলেজ পেয়েছে ১টি, সরকারী পাগলা স্কুল এন্ড কলেজ পেয়েছে ৬টি, বীরগাও এমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয় পেয়েছে ১টি, দরগাপাশা আব্দুর রশীদ উচ্চ বিদ্যালয় পেয়েছে ২টি। উপজেলার মধ্যে শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে ৪টি বিদ্যালয়- পুর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়, জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয়, সদরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাগলী নারাইনপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এদিকে উপজেলার মধ্যে ৬টি দাখিল মাদ্রাসার জেডিসি পরীক্ষায় ২শত ৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১শত ৮৮ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৬৯.৩৭%।
ছাতক উপজেলার ৪৪টি বিদ্যালয় থেকে ৫হাজার ৬০ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৮০৫জন। পাশের হার ৯৪.৯৬। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯৫জন শিক্ষার্থী। এদিকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ১৪১৯ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৩৪৭জন। পাশের হার ৯৪.৯৩। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২জন।
দিরাই উপজেলায় ২৮ টি বিদ্যালয় থেকে ৩৬৮০ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩২৫০জন। পাশের হার ৮৮.৩১। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৬জন। এদিকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৩৩৬ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩১৩জন। পাশের হার ৯৩.১৫।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬১৪ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৪৫৪জন। পাশের হার ৯০.০৯। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৬জন। এদিকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৪৪১ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৮১জন। পাশের হার ৮৬.৩৯।
ধর্মপাশা উপজেলার ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩১১৪ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ২৭২১জন। পাশের হার ৮৭.৩৭। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ জন।
এদিকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ১৬৬ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৮৩জন। পাশের হার ৫০.০০।
দোয়ারাবাজার উপজেলার ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০৬০জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ২৮২৯জন। পাশের হার ৯২.৪৫। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৪জন। এদিকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৮১৩ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৭৮৬জন। পাশের হার ৯৬.৬৭। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩জন।