বিশেষ প্রতিনিধি
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের ১৭৯ পয়েন্টে ট্রাক এবং ২ হাজার ৯’শ ২৪ জন ডিলারের মাধ্যমে গত রোববার থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রি করবে বলে ঘোষণা হলেও জেলার কোন ডিলারই টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু করেনি। জেলার কোন এলাকায়ই বুধবার পর্যন্ত টিসিবির কোন পণ্য পৌঁছায়নি। অথচ. বিভাগের অন্য তিন জেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে ২৯ মে থেকেই। ১৫ রমজান পর্যন্ত বিক্রি চলবে। সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুরে টিসিবি ডিলারের তালিকা জেলা প্রশাসনের ব্যবসা বাণিজ্য শাখায় পাওয়াই যায়নি। জানা গেছে, জেলার বেশিরভাগ এলাকায় টিসিবির ডিলার যারা হয়েছে, এর মধ্যে এমন নিত্য পণ্যের ব্যবসায়ী খুবই কম। এদের নাম কেবল কাগজে-ফাইলেই রয়েছে। তারা মালামাল তুলে এলাকায় বিক্রি করেছেন এমন তথ্য কমই রয়েছে।
সারা দেশের ১’শ ৭৯ টি পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ ট্রাক দিয়ে টিসিব’র পণ্য বিক্রি করার কথা। এর মধ্যে বিভাগীয় শহরে ৫ টি ট্রাক, জেলা শহরে ২ টি ট্রাক এবং ২ হাজার ৯’শ ২৪ জন ডিলারের মাধ্যমে রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয পণ্য, মসুর ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা এবং খেজুর বিক্রি করা হবে বলে ২৬ মে ঘোষণা দেয় টিসিবি।
২৯ মে থেকে রাজধানী ঢাকা শহরসহ দেশের ৪ বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহরগুলোয় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রয় শুরু হয়। সিলেটে বিভাগীয় শহরে ৫ টি ট্রাক, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে দুটি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় শুরু হয়। এই ৩ জেলার ৫২ জন ডিলারও টিসিবির পণ্য তুলে বিক্রি করেছেন। কিন্তু সুনামগঞ্জের টিসিবি ডিলাররা কেউ মালামালই তুলেননি। টিসিবির আঞ্চলিক অফিস থেকেও সুনামগঞ্জ জেলা শহরে ভ্রাম্যমাণ ট্রাক দিয়ে টিসিবি’র পণ্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসনের ব্যবসা বাণিজ্য শাখায় জেলার ১১ উপজেলার মধ্যে ৯ উপজেলার টিসিবি ডিলারের তালিকা রয়েছে। তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তালিকা ঐ শাখায় পাওয়া যায়নি। সদর ও তাহিরপুর ছাড়া অন্য ৯ উপজেলায় ২৬ জন টিসিবি ডিলারের নাম ফাইলে আছে। এরা কেউই বুধবার পর্যন্ত মালামাল ওঠাননি।
টিসিবির প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, টিসিবি রমজানকে সামনে রেখে ৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছে। এরমধ্যে প্রতিকেজি দেশি চিনি ৪৮ টাকায় (ভোক্তা প্রতি সর্বোচ্চ ৪ কেজি), মসুর ডাল ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সায় (ভোক্তা প্রতি ২ কেজি), ছোলা ৭০ টাকায় (ভোক্তা প্রতি ৫ কেজি), খেজুর ৯০ টাকায় (ভোক্তা প্রতি ১ কেজি), সোয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকায় ( ভোক্তা প্রতি ৫ লিটার) বিক্রি করছে।
দৈনিক ট্রাক প্রতি চিনি ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি, মসুর ডাল ১৫০ কেজি থেকে ২০০ কেজি, সোয়াবিন তেল ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার, ছোলা ৪০০ থেকে ৮০০ কেজি, খেজুর ৫০ কেজি বরাদ্দ রয়েছে।
রমজান উপলক্ষে ৫০০ মেট্রিক টন সোয়াবিল তেল, ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ছোলা খোলা বাজারে পর্যায়ক্রমে ছাড়া হবে বলেও জানান তিনি। ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী মালামালের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে বলে জানান টিসিবির এই কর্মকর্তা।
দোয়ারাবাজারের টিসিবি ডিলার বিনয় ট্রেডার্সের মালিক বিনয় ভূষণ চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে বলেন,‘৩ বছর হয় আমি টিসিবি ডিলার, একবার মালামাল তুলেছিলাম, লোকসান হয়েছে, বাজার মূল্য এবং সরকারি মূল্য প্রায় সমান সমান থাকে, মৌলভীবাজারের শেরপুর থেকে মালামাল তুলে পরিবহন খরচ দিয়ে পুষায় না, এছাড়া টিসিবির পণ্যের মানও ভাল নয়, এরপরও গত ২৮ মে শেরপুর গোদামে টিসিবি’র পণ্য তুলতে গিয়েছিলাম, দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়ে দিলেন- এখন মালামাল নেই, পরে আসেন’।
টিসিবির সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান জামাল উদ্দিন আহমদ বলেন,‘গত ২৯ মে থেকে সিলেট বিভাগীয় শহরে ৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে দুটি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি চলছে, সুনামগঞ্জের দূরত্ব বেশি, পরিবহন খরচও বেশি, এ কারণে ওখান থেকে কেউ ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে মালমাল বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি, গত ৩ বছর ধরেই সুনামগঞ্জে অনেক চেষ্টা করেও ভ্রাম্যমাণ ট্রাক পাঠাতে পারিনি আমরা। দোয়ারাবাজারের বিনয় ভূষণ চক্রবর্তী আসার আগেই ৫১ টি ডিও’র মালামাল সরবরাহ করা হয়ে গেছে। পরে উপজেলায় মালামাল বিক্রি বন্ধ রেখেছি আমরা, সুনামগঞ্জ শহরে কোন টিসিবি’র ডিলারও নেই, এজন্য ওখানে যোগযোগও করা যায়নি, ভ্রাম্যমাণ ট্রাক পাঠানোও যায়নি’। তিনি অবশ্য. টিসিবির পণ্যের মালামাল নিয়ে এবার কোথাও প্রশ্ন উত্থাপন হয়নি দাবি করে বলেন,‘সিলেটে টিসিবির পণ্যের ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ভীড় লেগে যায়, মালামাল খারাপ হলে এটি হতো না’। সুনামগঞ্জের ডিলারদের মালামাল না ওঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘নভেম্বর থেকে একাধিকবার সুনামগঞ্জের ডিলারদের ফোন দেওয়া হয়েছে, তারা তুলবে, আসবে, এসব বলেছে, কিন্তু কেউ আসেনি’।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘টিসিবি’র পণ্য কেন বিক্রি হচ্ছে না, খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো আমি’।


