জেলার ৯টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত তালিকাভূক্ত হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক চিঠিতে জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত এইসব কলেজের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নিকট হস্তান্তর করে রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য পত্র জারি করা হয়েছে। জাতীয়করণের চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভূক্ত জেলার ৯টি কলেজ হলোÑ তাহিরপুরের বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, বিশ্বম্ভরপুরের দ্বীগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রি কলেজ, ছাতক ডিগ্রি কলেজ, দিরাই ডিগ্রি কলেজ, ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ, দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ, জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও শাল্লা ডিগ্রি কলেজ। ফসলহারা জেলাবাসীর জন্য এটি একটি আনন্দদায়ক সংবাদ। সরকারের এমন শিক্ষাবান্ধব ঘোষণার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও এলাকার সংসদ সদস্যবৃন্দকে অভিনন্দন জানাই। আশা করছি বিধিগত প্রক্রিয়াদি সম্পন্ন হয়ে দ্রুতই কলেজগুলো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উচ্চ শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এই ৯টি কলেজ সরকারিকরণের ফলে অন্তত ৯টি এলাকায় উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের যে সুযোগ তৈরি হলো এলাকাবাসী তার পরিপূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করে একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে অনবদ্য অবদান রাখুন এই আমাদের কামনা।
বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু জাতীয়করণ করলেই চলবে না। একইসাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা দানের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের প্রচেষ্টা থাকতে হবে। আমরা দেখতে পাই জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চরম শিক্ষকস্বল্পতার কারণে শিক্ষাদান কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। জেলা শহরের সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজে অনুমোদিত পদের একটি বড় অংশই দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য পড়ে আছে। একই অবস্থা সকল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহেও। একাধিক বিষয়ের কোন শিক্ষক নেই। রয়েছে কর্মচারী স্বল্পতা। অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। তাই কোন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলো কিনা এর চাইতেও বড় প্রশ্ন হলো ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাদান কার্যক্রম কতটুকু সচল রয়েছে। কারণ শেষ পর্যন্ত শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা না রাখতে পারে তাহলে জাতীয়করণের আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়ে পড়বে। সরকারের এই বিষয়টির প্রতি সবিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি।
এ কথা সকলের জানা শিক্ষায় উন্নয়ন ভিন্ন কোন দেশ বা জাতির সার্বিক ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন আশা করা যায় না। সকল নাগরিকের ন্যুনতম শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ মেধাসম্পন্ন একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আমাদের প্রয়োজন রয়েছে। এই মেধাবীরা জ্ঞানের নানা বিভাগে অবদান রেখে দেশকে এমন একটি উচ্চতায় নিয়ে যাবেন যেখানে আমরা পৃথিবীর যেকোন উন্নত দেশের সাথে সমান মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে পারব। শুধু শ্রমনির্ভর শিল্প কারখানার মাধ্যমে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন আশা করা যায় না। প্রকৃতি উন্নতির জন্য নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি প্রয়োজন। এজন্য দরকার নিরন্তর গবেষণা কার্যক্রম। উচ্চ শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো জ্ঞান তৈরির জন্য সুদক্ষ জনবল তৈরি করা। আহরিত জ্ঞানকে যখন বস্তুগত উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হয় তখন এর সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুততর গতিতে সামনে এগোতে থাকে। মানসিক উৎকর্ষতা সাধনের বিষয়টি আরেক উদ্দেশ্য। সরকার জেলার যে ৯টি কলেজকে আজ জাতীয়করণ করতে যাচ্ছেন সেগুলো দেশের শিক্ষার উন্নয়নে প্রকৃত অর্থেই ভূমিকা রাখতে সক্ষম হোক সেটিই জাতির প্রত্যাশা। আর কেবল তখনই জাতীয়করণের মাহাত্ম্য প্রমাণিত হবে।
- হাওরের পানিতে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়নি -ড. দিলীপ কুমার সাহা
- রাতে বাঁধ কেটে দেয় মাছ শিকারীরা-পাগনা হাওর রক্ষায় শেষ লড়াই

