জেলায় বুস্টার ডোজের আওতায় ২১.০৭ শতাংশ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
করোনা সংক্রমণ রোধে সুনামগঞ্জে করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দিবসে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। মঙ্গলবার বুস্টার ডোজ দিবসে এবং পরের দিন বুধবার প্রায় এক লাখ মানুষ পেয়েছেন এই টিকা। জেলার ২৯২ টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করেছেন ৫৮৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী। টানা বৃষ্টি থাকলেও মঙ্গলবার জেলায় মোট ৭৮ হাজার ২০৬ জন টিকা নিয়েছেন। বুধবার টিকা নিয়েছেন ১৮ হাজার ৮৬৮ জন। দুই দিনে জেলায় মোট ৯৭ হাজার ৭৪ জন কে টিকা দেওয়া হয়েছে। বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার টিকা ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এদিন নিয়মিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ১ম ও ২য় ডোজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান ছিল।
এ পর্যন্ত জেলায় ১৯ লাখ ১৪ হাজার ৪১২ জন প্রথম ডোজ, ১৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬১২ জন ২য় ডোজ এবং ৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৪৬১ জন ৩য় ডোজের টিকা নিয়েছেন। প্রথম ও ২য় ডোজের টিকা হিসেবে সিনোফার্ম, এসট্রেজেনিকা, ফাইজার, সিনোভেক, মর্ডানা এবং ৩য় ডোজ টিকা হিসেবে ফাইজার ও মর্ডানার টিকা ব্যবহার করা হয়।
বুধবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় ২১.০৭ শতাংশ লোক ৩য ডোজের টিকা নিয়েছেন। এছাড়াও ২য় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৬০.৬৮ শতাংশ এবং প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৬৫.৫৪ শতাংশ।
এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২৯.৮৩ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৬৮.৭২ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৭০.০৫ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২১.১১ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৫৯.০৩ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬৭.৯৮ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
ছাতক উপজেলায় ১৬.৭৫ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৬০.৭০ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬৫.৮৫ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২০.৮৭ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৬১.৪৪ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬৮.২৫ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ২৩.৯০ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৫৭.০৮ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬৪.৯০ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলায় ২২.৫০ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৬১.৯২ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬৪.০৪ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ১৭.০৬ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৫৮.৪৭ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬৬.৬২ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
ধর্মপাশা উপজেলায় ২০.৬৬ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৫৭.৯৫ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬০.৮৮ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
দিরাই উপজেলায় ১৯.৬৩ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৫৯.৫৮ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬৭.৩৫ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
শাল্লা উপজেলায় ২০.২৩ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৫৭.৯৭ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬২.৮২ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০.২০ শতাংশ ৩য় ডোজ, ৫৯.৬৩ শতাংশ ২য় ডোজ এবং ৬১.৫৪ শতাংশ প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন।
সিভিল সার্জন ডা. আহমদ হোসেন বললেন, বুস্টার ডোজ দিবসে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫০০ জনকে টিকা প্রদানের লক্ষমাত্রা ছিল। কিন্তু সুনামগঞ্জে ওইদিন প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় টিকা কেন্দ্রে লোকজন আসতে পারেননি। এজন্য পরদিনও (বুধবার) সকল টিকা কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ টিকাদান কার্যক্রম চলমান ছিল।
তিনি বলেন, এই দিবসের আওতায় ১৮ বছর ও তদুর্ধ্ব সকল নাগরিককে তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন দেয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের চার মাস পর বুস্টার ডোজ দেয়া হয়। জেলার ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রায় ৩ হাজার জনকে বুস্টার ডোজের টিকা প্রদান করা হয়।