স্টাফ রিপোর্টার
পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে জাঁকজমকভাবে উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ২৫ জুন নতুন সম্ভাবনা, নতুন দিগন্ত নিয়ে যাত্রা শুরু করছে পদ্মা সেতু। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই এক বিস্ময় পদ্মা সেতু। প্রবল ¯্রােতের এই পদ্মা নদীতে সেতুটি তৈরি করতে আধুনিক মানের সব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। খর¯্রােতা পদ্মায় পানিপ্রবাহ বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরেই এর অবস্থান। এ সেতু নির্মাণে মাটির ১২০ থেকে ১২২ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো হয়েছে। যা একটি ৪০ তলা ভবনের সমান। পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো সেতুতে পাইল এতো গভীরে প্রবেশ করাতে হয়নি। এই সেতুতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের’ সক্ষমতা হচ্ছে ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। এখানে ১০ হাজার ৫০০ টন ওজনের একেকটি বিয়ারিং ব্যবহৃত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের পারাপারের জন্য উন্মোচিত হবে নবদিগন্তের দুয়ার। দ্বিতল পদ্মা সেতু দিয়ে বিভিন্ন জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবেন সহজেই। পুরো সেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২টি। প্রতিটি পিলারের রাখা হয়েছে ছয়টি পাইল। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হয়েছে। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো দেশের দীর্ঘতম এ সেতুটির আয়তন ৬.১৫ কিলোমিটার।
সভায় এই সম্ভাবনার পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে জাঁকজমকভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ২৫ তারিখ সকালে সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ, আদিবাসি, শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র্যালি বের হবে। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঐতিহ্য যাদুঘরে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হবে। এছাড়াও উপজেলা ও ৮৮ টি ইউনিয়নে একযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রজেক্টরে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঐতিহ্য যাদুঘর প্রাঙ্গণে বিকাল থেকে শুরু হবে ৩দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীসহ জেলার বাইরে থেকে শিল্পীদের অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ, জেলা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম, জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, সহসভাপতি শামস শামীম প্রমুখ।


