জেলা পরিষদ নির্বাচনে সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের ১ চেয়ারম্যান, ১৫ সাধারণ সদস্য ও ৫ সংরক্ষিত সদস্য আসনে মোট ২১ জন কর্মকর্তা বিশিষ্ট পরিষদ গঠনের উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে প্রধান দুই প্রার্থীসহ চার জন, সাধারণ সদস্য পদে ৮৭ জন ও সংরক্ষিত সদস্য আসনের জন্য ২০ জন মোট ১১১ ব্যক্তি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। প্রতীক বরাদ্দের পূর্ব পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে এই প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে বেশ আগেই। বলা যায় সরকার যখন জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তখন থেকেই এই প্রচারণা শুরু। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত লড়াইয়ে কারা থাকছেন। বাংলাদেশে এই প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে কোন জেলা পরিষদ গঠিত হতে যাচ্ছে। আরেকটি দিকেও এই জেলা পরিষদ নির্বাচনটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রথম। সেটি হলো কোন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এই প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটের পরিবর্তে পরোক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের নির্বাচকম-লী সাধারণ ভোটাররা নন। এই নির্বাচনের নির্বাচকম-লী হলেন জেলাধীন সকল উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ। সুনামগঞ্জে নির্বাচকম-লীর মোট সংখ্যা ১২১৬ জন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ডিসেম্বর। অবশ্য জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট বিবেচনাধীন রয়েছে। ওই রিটের শুনানির পর ভিন্ন কোন নির্দেশনা না আসলে ২৮ ডিসেম্বর দেশের সবগুলো জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয় সরকারের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদের এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হোক এটি কামনা করি।
সরকার পরিচালনায় বা দেশের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। জেলা পরিষদ. উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এই চার স্তরে বিভক্ত বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। আগে জেলা পরিষদগুলো অকার্যকর ছিলো। উপজেলা পরিষদও চালু হওয়ার পর মাঝখানে বেশ কয়েক বছর বন্ধ ছিলো। এখন স্থানীয় সরকারের এই চারটি স্তম্ভই সমানভাবে কার্যকর রয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো উন্নয়ন কাজে গতি সঞ্চার করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের কোন বিকল্প নেই। সরকার উন্নয়ন কাজের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত ক্ষমতা অর্পন করেননি বলে জাতীয়ভাবে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে তহবিল সংগ্রহ, বাজেট প্রণয়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবগুলো স্থানীয় সরকারকেই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষী থাকতে হয়। বিশেষজ্ঞ অভিমত হলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিকভাবে আরও ক্ষমতায়িত করা। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের উপর সরকারের আমলাতন্ত্রের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেটিকে খর্ব করাও ছিল আরেকটি প্রধান চাহিদা। সরকার এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটুকো সকলের প্রত্যাশা।
আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীগণ যাতে যাবতীয় নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে পালন করেন, তাঁরা প্রচারণায় যাতে কোন ধরনের রেষারেষি ও ব্যক্তি বিদ্বেষের বীজ রোপণ না করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোথাও যাতে শান্তি-শৃঙ্খলার বিন্দুমাত্র অবনতি না ঘটে, নির্বাচকম-লী যাতে অবাধে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এই হলো সাধারণভাবে সকলের চাওয়্ াপাওয়ার বিষয়। আমরা আশা করব সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও নির্বাচকম-লী সকলেই আইনমাফিক সততার সাথে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করবেন।

