Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
জেলা পরিষদ নির্বাচনটি সফল ও অর্থবহ হোক – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

জেলা পরিষদ নির্বাচনটি সফল ও অর্থবহ হোক

রাত পোহালেই দেশের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন। চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদপ্রার্থীরা দিনরাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচারণায় ইতোমধ্যে বিশেষ করে চেয়ারম্যান পদে প্রধান দুই প্রার্থী একে অপরকে দোষারোপ করে নানা ধরনের বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছেন। এমন কথামালায় প্রচারণাপর্বে যথেষ্ট উত্তেজনা ও বিশেষ গতি এনে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকার না পেলেও সকলেই অধীর আগ্রহে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তর গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁরা জানেন, ভোটাধিকার না থাকলেও স্থানীয় সরকারের এই শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং আখেরে এই প্রতিষ্ঠানটির কাজকর্ম সবকিছুই আবর্তিত হবে সাধারণ মানুষকে ঘিরে। সুতরাং এরকম একটি নির্বাচন ও নির্বাচনের হাইপ্রোফাইল প্রার্থীদের নিয়ে সর্বত্রই জোর আলোচনা। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন, ভবিষ্যৎবাণী ইত্যাদি সমানতালেই অব্যাহত রয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে দেশের ইতিহাসের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত একটি সফল ও অর্থবহ ফলাফল বয়ে আনুক এই আমাদের কামনা।
এই নির্বাচনের নির্বাচকম-লী হচ্ছেন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। সর্বসাকুল্যে এই সংখ্যা ১২১৫ জন। জেলার প্রায় ২৫ লাখ বা তার বেশি সংখ্যক জনগোষ্ঠীর পক্ষে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জেলা পরিষদ নির্বাচন করবেন। অসীম গুরুদায়িত্ব কতাঁদের ঘাড়ে। যথাযথভাবে এই দায়িত্ব পালনের উপরই নির্ভর করছে জেলা পরিষদের চেয়ারগুলোতে কারা বসবেন তা নির্ধারণ করার। আমরা আশা করব নির্বাচনে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে সর্বোত্তমরাই নির্বাচকম-লীর সমর্থন পাবেন। কেবলমাত্র তাহলেই নির্বাচকম-লীর প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে। বজায় থাকবে তাঁদের সম্মান ও শ্রদ্ধার জায়গাটুকু। কোন ধরনের প্রভাবযুক্ত না হয়ে নিজেদের বিবেকের মতকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁরা এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন, এই আমাদের বিশ্বাস।
জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানাভাবে যে বিভক্তিগুলি তৈরি হয়েছে তা যাতে নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে অবসান ঘটে সেজন্য আমরা সকলের প্রতি আবেদন জানাই। নির্বাচনের পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যের অন্য আলোকিত দিকটি হলো জয় এবং পরাজয় উভয়টিকেই সমভাবে গ্রহণ করা। এই গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে নির্বাচকম-লীর প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বিগণের শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এই মনোভাব দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও চর্চা শক্তিশালীকরণে রাখে বিরাট ভূমিকা। আমরা আশা রাখব ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনটি দেশের গণতন্ত্র চর্চার জায়গায় একটি অনুসরণযোগ্য মাইলফলক হয়েই থাকবে।
যাঁরা নির্বাচিত হবেন তাঁদের প্রতি আমাদের অনুরোধ স্থানীয় সরকারের শক্তিশালী এই কাঠামোটিকে আরও সেবামুখী আরও কার্যকর ও সর্বোত্তম জনহিতকর হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ প্রয়াস নিবেন। এটি যাতে ব্যক্তি বিশেষের পদ-পদবি লাভের বাইরে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে সেদিকেই তাঁদের বিশেষ দৃষ্টি দেয়া জরুরি। তাহলেই নির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রথম জনপ্রতিনিধিরা ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী আসন পেয়ে যাবেন। জনপ্রতিনিধিত্ব করা একটি সৌভাগ্যের বিষয় বটে। এটি ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। ব্যক্তি যখন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে যান তখন তাঁর যে সামাজিক দায়িত্ব কাঁধে আরোািপত হয় আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই সেই ভার বহনে শতভাগ সফলতা দেখাতে পারেন না, দেশব্যাপী নানা উদাহরণ দিয়ে এর প্রমাণ দেয়া সম্ভব। আমরা প্রত্যাশা করি সুনামগঞ্জের জেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ নিজেদের অনুসরণযোগ্য উদাহরণযোগ্য ওইরকম সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবেন। বটগাছের চারিদিকে বিস্তৃত শিকড়ের ন্যায় তাঁরা গভীরভাবে সামাজিক সম্মিলন ও উন্নয়নকে নিজের ভিত্তি হিসেবে তৈরি করবেন।