বিশেষ প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার শাখার শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ সদস্য, ৫ জন সংরক্ষিত সদস্য ও ১ জন চেয়ারম্যান নিয়ে গঠিত হবে এই পরিষদ। নির্বাচনের লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের ইউনিয়নভিত্তিক বিভক্তিকরণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সমগ্র জেলাকে ১৫টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করার লক্ষে সীমানা চিহ্নিত করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে সীমানা চিহ্নিতকরণ নিয়ে কারও কোন আপত্তি কিংবা পরামর্শ থাকলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ২ নং ওয়ার্ডে মধ্যনগর থানার বংশীকুন্ডা (উত্তর), বংশীকুন্ডা (দক্ষিণ), ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি, চামরদানী, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নকে রাখা হয়েছে। ৩ নং ওয়ার্ডে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ, ধর্মপাশা, জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর (দক্ষিণ), সুখাইড় রাজাপুর (উত্তর) ও জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নে রাখা হয়েছে। ৪ নং ওয়ার্ডে জামালগঞ্জ সদর, সাচনাবাজার, বেহেলী, ভীমখালী,
সদর উপজেলার মোহনপুর ও দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়ন।
এই তিনটি ওয়ার্ডের ফেনারবাঁক, ভাটিপাড়া, মোহনপুর ও দক্ষিণ শ্রীপুরের বাসিন্দাগণ ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণের মাধ্যমে অন্য উপজেলা যেতে রাজী নয়। সীমানা নির্ধারণের বিভক্তি নিয়ে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ চাইছেন নিজের এলাকায় থাকতে। আবার কেউ বলছেন জেলা প্রশাসন যা ভাল মনে করবেন তাই ভাল।
তবে জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন এনিয়ে হতাশা সৃষ্টির কোন কারণ নেই। কেউ কোন কিছু জানাতে চাইলে ও পরিবর্তন চাইলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। আমরা তা খতিয়ে দেখব।
জানা যায়, ৩ নং ওয়ার্ডে (ধর্মপাশায়) যেতে চান না জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নবাসী। তাঁরা নিজ উপজেলা জামালগঞ্জেই থাকতে চান। এলক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে আপত্তি ও পরামর্শ জানাবেন বলে জানিয়েছেন ফেনারবাঁক ইউনিয়নের উজান দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার।
সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার বলেন, ‘প্রতি ৬ ইউনিয়ন নিয়ে একটি ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। একসময় জামালগঞ্জে ৫টি ইউনিয়ন থাকলেও বর্তমানে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভেঙে জামালগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন সৃষ্টি হয়ে এখন উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। তাই জামালগঞ্জের ফেনারবাঁককে কোনভাবেই ৩ নং ওয়ার্ড ধর্মপাশায় সংযুক্ত করা ঠিক হবে না। যেহেতু আমাদের উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে আমাদের ৬টি দিয়েই একটি ওয়ার্ড গঠনের জন্য আমি সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘৪ নং ওয়ার্ডে জামালগঞ্জের সাথে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ও সদরের মোহনপুর ইউনিয়নও থাকতে চাইছেন না। সুতরাং আমাদের সবক’টি ইউনিয়ন দিয়েই একটা ওয়ার্ড করা হোক আমরা এটাই চাই।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জেলা জাপা নেতা আবু তালিব মুরাদ বলে,‘ আমাদের ৪ নং ওয়ার্ড জামালগঞ্জ উপজেলার সাথে দেয়া হয়েছে। এটা একটা উদ্ভট ও অযৌক্তিক প্রস্তাবনা। আমরা সদর উপজেলা তথা জেলা সদরের সাথে থাকতে চাই। আমাদের নিজ এলাকার থাকার জন্য যা করার দরকার আমরা তাই করব।’
দিরাউ উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,‘ আমরা কেন জামালগঞ্জের সাথে চলে যাব? এই সিদ্ধান্ত সঠিক নয়, আমরা দিরাইয়ের সাথে থাকতে চাই। প্রয়োজনে আমরা এ ব্যাপারে লিখিতভাবে আবেদন করব।’
তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামের আলী আহমদ মুরাদ বলেন,‘আমরা তাহিরপুর উপজেলায় থাকার পক্ষে। কারণ আমাদের ইউনিয়ন থেকে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর থানা সদর অনেক দূরে। তাই যে কোন প্রকারে আমরা আমাদের উপজেলার ওয়ার্ডের সাথেই থাকতে চাই। জেলা প্রশাসন যেন আমাদেরকে তাহিরপুরের সাথেই রাখেন।’
তবে তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার বলেন,‘জেলা প্রশাসন ওয়ার্ড বিভক্তিতে যেভাবে তালিকা করছেন সেটা থাকলে আমার কোন সমস্যা নেই। এটাই থাকুক।’
উল্লেখ্য ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ১ টি ওয়ার্ড গঠন করা হচ্ছে। সেই ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল মেম্বার ও উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যানগণ, পৌরসভা থাকলে পৌরসভার মেয়র, সকল কাউন্সিলরগণ ভোটের মাধ্যমে এক জন সদস্য নির্বাচন করবেন। এভাবে আবার তিনটি ওয়ার্ডের সকলে ভোট প্রদান করে একজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচন করবেন। তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিভাবে নির্বাচিত হবেন, কারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন এবিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায় নি।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুজ্জামান বলেন,‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। পরিষদের ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচনের বিষয়ে কিছু তথ্য জানা গেছে। ১৫টি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের জন্য পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। কারো কোন আপত্তি ও পরামর্শ থাকলে তা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। লিখিত আবেদন পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
- শহিদ মিনার সংক্রান্ত সংবাদের বিষয়ে পৌর মেয়রের প্রতিবাদ
- সভা সমাবেশে ২১ আগস্টের খুনী চক্রের বিচার দাবি


