স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) একটি চিঠি ইস্যু করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জোবাইদা নাসরিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জেলা পরিষদ নির্বাচন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২৮ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তা পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি। তিন পার্বত্য জেলা বাদে বাংলাদেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। এসব প্রশাসকদের মেয়াদপূর্তিতে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের এই বক্তব্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে আবারো তোড়জোর শুরু হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট সচিবের ঘোষণায় নড়ে চড়ে বসেছেন জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।
মন্ত্রীর ঘোষণার পর পরই বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ শুরু করছেন। অনেক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথেও যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নির্দলীয় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুুকুটের নাম নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে কাউকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয় নি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে উল্লেখিত ওই তিন নেতা ছাড়া আরো কারো নাম নিয়ে আলোচনাও নেই। এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে বিএনপির কোন নেতৃবৃন্দের নাম শুনা যায় নি। প্রচার-প্রচারণায় নামেনি বিএনপির কোন নেতৃবৃন্দ।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট বলেন,‘ আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। নির্বাচন করার লক্ষ্যে অনেক আগ থেকেই মাঠে কাজ করছি। মাঠ পর্যায় থেকে আমি ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এই নির্বাচন নির্দলীয় নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে কাজ করছেন। আমার আশা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি বিজয়ী হব। চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ও তাদের পরামর্শে জেলা পরিষদের বিশাল বরাদ্দ দিয়ে জেলার উন্নয়ন করতে চাই। ’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘আমার নেত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলে তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘ জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি। কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গৃহিত হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
প্রঙ্গত, তিন পার্বত্য জেলা বাদে বাংলাদেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। এসব প্রশাসকদের মেয়াদপূর্তিতে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা। ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দ্রুত আইন প্রণয়ন ও প্রথমে অধ্যাদেশ আকারে তা জারি করে সরকার। পরে জাতীয় সংসদে তা পাস করা হয়।
সংশোধিত জেলা পরিষদ আইনে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করা হয়। আইনে চারস্তর বিশিষ্ট নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ) জেলা পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নেবে। একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য এবং ৫ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
ভোট দেবেন চারস্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। যেসব জেলায় সিটি করপোরেশন নেই, সে সব জেলায় তিনস্তরের প্রতিনিধিরাই ভোট দেবেন।গত ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ পাস হয়। এর আগে অধ্যাদেশ জারির পরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কমিশনকে একটি চিঠি ইস্যু করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।


