জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবনটির প্রয়েজনীয় নির্মাণ-মেরামতি চাই

এই শহরে এমন কীছু কীছু  ভবন খোঁজলে হয় তো পাওয়া যেতে পারে,  যে-গুলোর বয়স শত বছর পেরিয়ে না গেলেও বয়সের দিক থেকে তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু সে-গুলোর অবস্থা এখনও এমন হয়ে যায়নি যে, এখনই ভেঙে পড়ে যাবে।  বরং বলা যায় অনেকটাই বহাল তবিয়তে আছে। পুরনো হলেও অনেকটা শক্ত ও মজবুত, এককথায় বলতে গেলে মোটেও  বাসোপযোগিতা হারায়নি। লোকেরা সে-গুলোর ভেতরে বসবাস করেন নির্বিঘেœ। তাঁরা ভবনের ছাদ কিংবা দেওয়াল ধ্বসে গিয়ে মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কায় শঙ্কিত থাকেন না সদাসর্বদা।
বলাই বাহুল্য স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নির্মিত যে-সব ভবন, বিশেষ করে সরকারি ভবন, সে-গুলোর বয়স এখনো পঞ্চাশ পেরিয়ে যায়নি। অনেক ভবন আছে যে-গুলোর বয়স হাতে গোনা দশক দুইয়ের বেশি হবে না। কিন্তু এমন স্বল্পবয়সী ভবনগুলো পঞ্চাশ পেরোবে কি, কোনও কোনও ক্ষেত্রে  দশ-বিশ বছর পেরোবার আগেই বাসোপযোগিতা হারাচ্ছে বলে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। সুনামগঞ্জ শহরের তেমনি একটি ভবন হলো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ভবন। সুনামগঞ্জের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্যানুসারে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়া সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। এই ভবনে বসে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। বাথরুমের ছাদ ইতোমধ্যে খসে পড়ায় সেটা ব্যবহারোপযোগিতা হারিয়েছে।
বিস্তৃত বিবরণ পেশ না করে বরং সংক্ষেপে বলতে চাই, ইতঃপূর্বে সরকারি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিবন্ধকতাহীন অবস্থায় ও ব্যাপকমাত্রায় সংঘটিত হয়েছে। ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে নি¤œমানের মালমসলা ব্যবহার ও  নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, কাজ শেষে যে-কাজ যথোপযুক্তভাবে সম্পন্ন হয়নি সে-কাজকে যথাযথভাবে হয়েছে বলে ছাড়পত্র দেওয়া ইত্যাদি কারণে বাস্তবে ভবনগুলোর স্থায়িত্বকাল কমে গেছে। অর্থাৎ ভবনগুলো নির্মাণ কৌশলের কারণেই সে-গুলো অচিরেই ভেঙে পড়া বা ধ্বসে যাওয়াটা স্বাভাবিক শিকার হয়ে উঠেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
যেখানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ভবন স্বয়ং শারীরিকভাবে সুস্থ নয়, সেখানে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই যে খুব একটা ভালো নেই তা সহজেই অনুমেয়। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে কোনও কর্মকর্তা অফিসে বসে কাজ করবেন বা শিশুছাত্ররা পড়াশোনায় নিমগ্ন থাকবে সেটা কোনও সুস্থ মানসিকতার পরিচয় নয়।
আমার আশা করবো, অচিরেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার-মেরামতি কিংবা প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।