জোয়াল ভাঙ্গা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ সাইনবোর্ড ছাড়াই কাজ চলছে নীতিমালা জানেন না পিআইসি

স্টাফ রিপোর্টার
কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) প্রকল্পের মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে মাটির কাজ করেন শ্রমিকরা। প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের বরাদ্দ, বাঁধের দৈর্ঘ, প্রস্থ, উচ্চতাসহ প্রকল্পের সকল নির্দেশনা (সাইনবোর্ড) লাগিয়ে কাজ করতে হয়। পাউবোর নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)’র সকল কাজেই সাইনবোর্ড থাকার কথা।
কিন্তু সদর উপজেলার জোয়ালভাঙ্গা হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে সাইনবোর্ড ছাড়াই। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে, পিআইসি সভাপতি নীতিমালার কথা জেনেও না জানার ভান করছে। তবে পাউবোর শাখা কর্মকর্তা ও পিআইসির সভাপতি বলছেন নিয়ম-নীতি মেনেই কাজ হচ্ছে।
জানা যায়, পাউবোর অধীনে কাবিখার বরাদ্দে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে নিধিরচর এলাকা পর্যন্ত জোয়ালভাঙ্গা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প বরাদ্দ ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৩২ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)’র সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম। প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড ছাড়াই গত কয়েক দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম। কাবিখা প্রকল্পে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুরমুজ (মাটি চাপা দেয়া) ও বাঁধের ভাঙ্গা অংশে (গভীর গর্তে) বাঁশের বেড়া ও বস্তা দেয়ার নিয়ম থাকলে এসব কোন নিয়মের ধার ধারছেন না তিনি। প্রকল্পের ইছবপুর ও নিধিপুর গ্রামের মাঝে জিরাগের ভাঙ্গায় বাঁশ ও বস্তা ছাড়াই মাটি ফেলা হচ্ছে। এছাড়া মাটি শক্ত করার করার জন্য কোন দুরমুজ (চাপ দেয়া) দেয়া হচ্ছে না। কৃষকদের অভিযোগ, পিআইসির সভাপতি ইচ্ছাখুশি মাটি ভরাট করছেন। কত টাকার কত ফুট কাজ তা জানেন না এলাকার কেউ।
এদিকে বাঁধের গভীর গর্তে (ভাঙ্গায়) বাঁশ-বস্তা দেয়া লাগে কিনা এই বিষয়টি জানা নেই ইউপি সদস্য আব্দুস সালামের। প্রকল্পের এসব নিয়ম-নীতি পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) তাকে  জানান নি।
শুক্রবার বিকালে পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) ও পিআইসির সভাপতিকে সাথে নিয়ে জোয়াল ভাঙ্গা হাওরের অধিক ঝুঁিকপূর্ণ জিরাগের বাঁধ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ তদারকি উপজেলা কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী। পরিদর্শন শেষে প্রকল্পের কাজ সন্তুষজনক নয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)’র সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন,‘ বাঁধের কাজ এখন শেষ হয়নি, কাজ চলছে। ইউএনও স্যারও এসব কাজ দেখে গেছেন। মাটি ফেলার কাজ দ্রুত চলছে। জিরাগের ভাঙ্গায় বাঁশ ও বস্তা দেয়া লাগবে তা আগে জানায় নি এসও সাব। ইউএনও স্যার বলার পর বাঁশ দেয়া হয়েছে, ভাঙ্গার মাটি ফেলার কাজ প্রায় শেষ। বস্তা এখনও দেয়া হয়নি। বস্তা দেয়া লাগবে  কিনা তা জানানো হয়নি আমাকে।’
জোয়ালভাঙ্গা হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) সজীব পাল বলেন,‘ প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেয়ার জন্য পিআইসির সভাপতিকে বলা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই লাগানো হবে। কাজ সঠিকভাবেই করা হচ্ছে। মাটি ফেলার পর দুরমুজ দেয়া হবে ও স্লউফ (ঢালু) ঠিক করা হবে। জিরাগের ভাঙ্গায় বাঁশ দিয়ে আড় দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী বলেন,‘জোয়াল ভাঙ্গা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের মান সন্তোষজনক নয়। ঝুঁিকপূর্ণ বাঁধে মাটি ভরাটের আগেই বাঁশ দেয়ার কথা থাকলেও মাটি ভরাটের কাজ চলছে বাঁশ না দিয়েই। পরিদর্শনকালে প্রকেল্পর কোথাও সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়নি। গভীর বাঁধ ও প্রকল্পের কোথাও মাটি ড্রেসিং করা হয়নি। পিআইসিকে দ্রুত সাইনবোর্ড স্থাপন ও ঝঁিকপূর্ণ স্থানে বাঁশ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য পাউবোর দৃষ্টিতে আনা হয়েছে।’