জমিরুল ইসলাম মমতাজ, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে। নদীর ভয়াবহ আগ্রাসনে ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছে অনেক পরিবার। ভাঙনের তীব্রতায় ঝুঁকিতে রয়েছে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক সড়ক। যে কোনো সময় সড়কের সদরপুর সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নদী ভাঙনে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। গ্রামের একদিকে নাগডরা হাওর, আরেক দিকে নাইন্দা নদী। মাঝখানে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক সড়কের সদরপুর সেতু। ভাঙনের তীব্রতায় ধসে গেছে সেতুর দুইপাশের এপ্রোচ। যে কোনো সময় সেতু নদীতে বিলীন হয়ে সারা দেশের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
সেতুর দুই দিকেই হাওর ও নদী, মাঝখানে সদরপুর গ্রামের অবস্থান। গত বছরের বন্যার পর থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের ভিটা ভাঙনে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব পরিবারগুলো আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অথবা খুপরি ঘরে কোনো রকমে থাকছেন। নাইন্দা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন তারা। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্তদের। এদিকে অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে আরও অসংখ্য ঘরবাড়ি, সড়ক, শ্মশান, মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
জানা যায়, ২০০৪ সালের বন্যার পর থেকে উপজেলার নাইন্দা নদীর সদরপুর গ্রামে ভাঙন শুরু হয়। দীর্ঘ ১৯ বছরের অব্যাহত ভাঙনে পুরো গ্রাম এখন বিলীনের পথে। ২০২২ সালের বন্যার পর থেকে নাইন্দা নদীর আগ্রাসন কয়েকগুণ বেড়েছে।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সাথী রানী দেব, কলেজ পড়ুয়া দীপ্ত দেব, মুসলিম আলী, মনির হোসেন বললেন, আমরা খুবই কষ্টে আছি। কয়েকটি পরিবার জায়গা কিনে অন্যত্র বাড়ি করেছে। আমাদের সেই সামর্থ্য নেই, খুপরি ঘরে আছি। সরকার ও বিত্তবানদের সাহায্য চাই আমরা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামছুদ্দোহা বলেন, ভাঙন রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ৩টি স্পেনে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদরপুর সেতু ১৯৭৯-১৯৮২ সময়কালে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এখানে চ্যানেলের প্রশস্ততা প্রায় ১০০ মিটারের অধিক। এতে সেতুর দুই পাশের এভার্টম্যান চ্যানেলের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং প্রতি বছর বন্যায় এভার্টম্যান সংলগ্ন মাটি ওয়াশআউট হয়ে যায়। এজন্য যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সেতুর দুই প্রান্তে আলাদা ভাবে বেইলী সেতুর সংযোগ স্থাপন করেছি, যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়। আমরা আশঙ্কা করছি- এ বছর বন্যায় সেতু আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। আমরা সেতু রক্ষায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ হাতে নিয়েছি। এছাড়াও এই সেতুর পাশে আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে।


