ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা খুঁটিতে ঝুলে আছে তার

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা তাহিরপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা কাঠের খুঁটিতে ঝুলে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের অসংখ্য তার। রাস্তাঘাটে প্রায়ই দেখা যায় ট্রান্সমিটার বহনকারী খুঁটি ভেঙে উল্টে কাত হয়ে রয়েছে। আবার কোন কোন স্থানে একটি খুঁটির উপর আরেকটি খুঁটির ভর দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের খুঁঠিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে না পাল্টালে এলাকাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।
উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, তাহিরপুর উপজেলা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে শনিরহাওর পাড়, সুলেমানপুর গ্রামের পাশে বয়ে যাওয়া পাঠলাই নদীর উত্তর পাড়ে, ভবানীপুর গ্রামের সামনে, ট্যাকেরঘাট বাজারের দক্ষিণ দিকে, কামারকান্দি গ্রামের উত্তর দিকে, বাদাঘাট বাজারের কাঠ পট্টিসহ শতাধিক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা কাঠের খুঁটিতে বিদ্যুতের তার ঝুলানো রয়েছে।
উপজেলার বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার বলেন, ২০০১ সালে যখন তাহিরপুর উপজেলায় প্রথম বিদ্যুৎ আসে তখন কাঠের খুঁঠির উপর পল্লী বিদ্যুতের তার ঝুলিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। বর্তমানে সারা উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়িত হলেও সেবার মান খুবই খারাপ। বিদ্যুতের কাঠের খুঁটিগুলো অনেক পুরানো। উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্থানে গিয়ে দেখা যায় ভাঙা কাঠের খুঁটিতে পল্লী বিদ্যুতের তার ঝুলানো রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রবিবার সকালে বাদাঘাট বাজারের কাঠ পট্টিতে গিয়ে দেখেন, পল্লী বিদ্যুতের কাঠের ভাঙা খুঁটির মধ্যে ট্রান্সমিটার ঝুলানো রয়েছে। তিনি ধারণা করেছেন রবিবার রাতের যে কোন সময় কাঠের খুঁটিটি ভাঙতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে খুঁটি না পাল্টালে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ট্যাকেরঘাটের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক স্বপন কুমার দাস বলেন, ট্যাকেরঘাট বাজারের দক্ষিণ পাশে বিদ্যুতের কাঠের খুঁটি ভেঙে নুয়ে পড়ে আছে। টাঙ্গুয়ার হাওরে অনেক পর্যটকের নৌকা ট্যাকেরঘাট ও নীলাদ্রি লেকে আসতে ঐ খুঁটির পাশ দিয়ে সতর্ক হয়ে আসতে হয়। অসতর্ক অবস্থায় থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
সুলোমানপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য হাবুল মিয়া বলেন, পাঠলাই নদীর উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা কাঠের খুঁটির উপর বিদ্যুতের তার ঝুলে রয়েছে। আমরা অনেকবার পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের বলেছি তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
পল্লী বিদ্যুৎ তাহিরপুর উপজেলার সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার একরাম হোসেন জনি বলেন, বিদ্যুতের সব কাঠের খুঁটিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করেছি। বাদাঘাট বাজারের কাঠপট্টির ট্রান্সমিটারসহ খুঁটিটি ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করে দেয়া হবে।