ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে লাখো মানুষের চলাচল

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের যোগাযোগ রক্ষাকারী ঝুঁকিপূর্ণ তেরানগর সেতু নতুন করে নির্মাণ না করে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় উৎকন্ঠিত এলাকাবাসী। এলাকাবাসী মনে করেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু জোড়াতালির সংস্কার নয়, নতুন করে নির্মাণ করা জরুরি।
জামালগঞ্জের ভীমখালী ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নসহ দিরাইয়ের রফিনগর ও ভাটিপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত তেরানগর সেতু দিয়ে। ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর গ্রাম সংলগ্ন দৌলতা নদীর ওপর ২০ বছর আগে প্রায় ৩০০ ফুটের বেশি দৈর্ঘ ও ৬ ফুট প্রস্থ সরু সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটির খানে খানে এখন ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তের অধিক ঢালু জায়গা ডিঙিয়ে সেতুতে ওঠছে যানবাহন।  সেতু থেকে নামতে দুই পাশে নেই কোন র‌্যালিং। যাত্রীবাহী যান একটু অসতর্ক হলেই নিশ্চিত দুর্ঘটনায় পতিত হবে এখানে। সেতুর পিলারগুলোর অবস্থা আরও বেশি নাজুক। সেতুটি সাময়িক সংস্কার হচ্ছে দেখে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
এলাকাবাসীজানিয়েছেন, মাসখানেক আগে সেতু পার হবার সময় ট্রলি উল্টে হানিফ মিয়া নামের এক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এখানে। সম্প্রতি সেতুর দুই মাথার অংশ ভেঙে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন মনে করেন, অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু সংস্কার নয়, নতুন করে নির্মাণ হওয়া জরুরি।
সেতু সংলগ্ন ফেনারবাঁক ইউনিয়নের মাতারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও পশ্চিম রাজাপুর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সীতেশ রঞ্জন তালুকদার বলেন, তেরাপুর ব্রিজের নীচের পিলারগুলো দুর্বল হয়ে গেছে। দুই গাড়ি এক সাথে উঠলে ব্রিজটা কেঁপে উঠে। আতংক নিয়েই ব্রিজ পার হচ্ছে মানুষ। জরুরী ভিত্তিতে এই ব্রিজটা নির্মাণ করা দরকার।
ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর গ্রামের আব্দুল হক বলেন, ‘ভাঙা ব্রিজে এখন যে কাজ করা হইতাছে এইটা সাময়িক। কিছুদিন যাওয়ার পর আবার আগের অবস্থায় চইলা যাইব। পুরাতন এই ব্রিজ ভাইঙা স্থায়ীভাবে নতুন মজবুত ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন। নইলে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকব।’
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য অক্ষয় দাস বলেন, ৩-৪ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই মানুষ চলাচল করছে। এখনকার ঝুঁকিটা এক্কেবারে বেশি। কিছুদিন আগে এইখানে একজন মারাও গেছে। তবু বিপদে পড়ে এই ব্রিজ দিয়েই বাজার হাটে যেতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজ ভেঙে দ্রুত নতুন ব্রিজ করার দাবি সকলের।
ফেনারবাঁক গ্রামের মো. নবাব মিয়া জানিয়েছেন, ২০-২২ বছর আগে সেতু যখন করা হয়েছিল। তখন এর কাজ সঠিকভাবে হয়নি। নি¤œমানের কাজ হওয়ায় মাঝে মাঝে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই মুখের কিনারের র‌্যালিং ভেঙে গেছে। এখন যদি এই সেতু নতুন করে নির্মাণ করা না হয়, তাহলে যে কোনদিন বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, এই সেতুটি নতুন করে করা হবে। এটা ডিপিপিতে প্রক্রিয়াধীন আছে। ডিপিপি অনুমোদন হয়ে গেলেই এর দরপত্র হবে। দরপত্র শেষে আমরা চেষ্টা করব কাজ দ্রুত শেষ করার।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব বলেন, তেরানগর সেতু নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা আছে কি না সে ব্যাপারে এলজিইডি ভালো বলতে পারবে। তবে জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে সংস্কারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, দুই-চারদিনের মধ্যে সেতুটিকে চলাচল উপযোগী করে দেওয়া হবে।