ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জালালাবাদ গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র/ ৭ ঘন্টা পর স্বাভাবিক

স্টাফ রিপোর্টার
ঝড়ে সুনামগঞ্জ জালালাবাদ গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রের উপর গাছ পড়ে সরবরাহ লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সাড়ে প্রায় ৭ ঘণ্টা পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। রাত দেড়টা থেকে সকাল সাড়ে ৮ পর্যন্ত সুনামগঞ্জের সাড়ে ৪ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহ হয়নি।
সোমবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জের উপর দিয়ে আকস্মিক ঝড় বয়ে যায়। এতে জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের লাইনের উপর গাছ পড়ে রেগুলেটর ভেঙে গ্যাস বের হতে থাকে। নিরাপত্তা জনিত কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভোরে সিলেট কার্যালয় থেকে জালালাবাদ গ্যাসের ডিজিএমসহ একটি কারিগরি দল এসে সকাল সাড়ে ৮টায় বিকল্প লাইনে শহরের আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু সিএনজি পাম্পগুলোর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাওসার আলম বললেন, রাতে ঝড়ের মধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। এরপর থেকে গ্যাসও বন্ধ হয়ে যায়। পরে জানলাম গ্যাস লাইনে গাছ পড়েছে। আমাদের কপাল ভালো, যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।
একই এলাকার মনছুর আলী বলেন, তুফানে গাছ যেভাবে পড়েছে, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। তেমন কিছু হয় নি, কয়েক ঘণ্টা কেবল গ্যাস বন্ধ ছিল।
সকালে আবাসিক গ্যাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন অফিস যাত্রীরা। শহরের শহীদ আবুল হোসেন রোডের বাসিন্দা সুমন দাস বললেন, ‘আমরা ভাই-বোন দুজন প্রাথমিক ট্রেণিং ইনস্টিউট (পিটিআইয়ে) প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, অন্যান্য দিন সকালে খেয়ে বের হয়ে যাই, বুধবার সেটি হয়ে ওঠেনি, মধ্যরাত থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় না খেয়েই বেরুতে হয়েছে।’
সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম বললেন, ভোর চারটায় গ্যাস নিতে এসে বসেছিলাম। দুপুর ১২ টায় গ্যাস সরবরাহ চালু হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পেয়েছি বেলা একটায়, আমার মতো অনেকেই এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের ব্যবস্থাপক শফিকুল হক বললেন, রাতের ঝড়ে সরবরাহ কেন্দ্রের উপর অর্জুন গাছ পড়ে রেগুলেটর ভেঙে গ্যাস বের হতে থাকে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানোর পর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোরে সিলেট থেকে ডিজিএম স্যারের নেতৃত্বে কারিগড়ি দল এসে গাছ কাটার পর বিকল্প ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। দুপুর ১২ টায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়। এসময় সিএনজি পাম্পেও গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়।
জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অফিস সিলেটের ডিজিএম একেএম আজাদ কামাল বললেন, রাতে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার কথা চিন্ত করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ কওে দেওয়া হয়। সকালে সিএনজি পাম্প ছাড়া অন্য সকল স্থানে বিকল্প লাইনে আবাসিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। যেহেতু বিকল্প লাইনে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল, এজন্য সিএনজি পাম্পগুলোকে গ্যাস দেওয়া যায় নি, দুপুর ১২ টায় সিএনজি লাইনেও গ্যাস সরবরাহ হয়, সকল সঞ্চালন লাইনও স্বাভাবিক হয়।