জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার সভায় বললেন, ৫-৭ জন কে পয়সা দিয়ে আমি সভাপতি ও সেক্রেটারি হতে পারব। তাঁর এমন বক্তব্যে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই প্রার্থীর বক্তব্য ভাইরাল হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব খান গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় শেওরা গ্রামে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, ৫-৭ জনকে পয়সা (টাকা) দিয়ে আমি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি-সভাপতি হতে পারব। কিন্তু আশারকান্দি ইউনিয়নবাসীকে কিনতে পারব না। তিনি আরও বলেন, আমাদের মন্ত্রীর এলাকায় ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫টিতে স্বতন্ত্র জিতেছে, দুইটিতে জয়ী হয়েছে নৌকা। প্রশাসন ও সরকার নিরপেক্ষ ইলেকশন চায়। ইনশাআল্লাহ হানড্রেড পারসেন্ট নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তিনি বলেন, আমাকে যদি দল থেকে বহিস্কার করা হয়, কোন সমস্যা নেই। চেয়ারম্যান প্রার্থীর এমন বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহ এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে দলের বিরুদ্ধে এরকম বক্তব্যে কোনোভাব গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যার যার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু দলকে হেয় করার যৌক্তিকতা নেই।
আশারকান্দি ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুস সত্তার জানান, নির্বাচনে আমি একজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী। যাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে আনা হয়েছে তিনিও একজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী। সুতরাং এ বিষয়ে কিছু বলা সঠিক হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান বলেন, গেল নির্বাচনে আমি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এজন্য এবার দলীয় মনোনয়ন চাইনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। ওই বক্তব্যটি স্লিপ অব টাং।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, বুধবার আমাদের দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে।


