‘টাঙ্গুয়ার হাওরের সম্পদ রক্ষায় আন্তরিক হতে হবে’

স্টাফ রিপোর্টার
দেশে সবচেয়ে বেশি পাখি আসে টাঙ্গুয়ার হাওরে। এই পাখির জন্য নিরাপদ স্থান হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রতি বছর এখানে লাখো পাখি আসে। নানা কারণে দিনদিন পাখি আসা কমছে। তাই শুধু পাখি সংরক্ষণ নয়; এই হাওরের গাছ, মাছ, জীববৈচিত্রসহ সকল সম্পদ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখি সংরক্ষণ’ বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকালে পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এই সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্বে করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
সভায় আইইউসিএনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, হাওরে শুধু পাখি থাকে না। পাখি একা থাকতে পারবে না। হাওরের সকল প্রাণী ও সম্পদ মিলে যে প্রতিবেশ সেটিকে রক্ষা করতে হবে। হাওরের কাজে প্রকল্প হয়। কিন্তু এই প্রকল্প একদিন থাকে না। এখন প্রশাসন আছে, একদিন প্রশাসনও থাকবে না। তাই হাওরের সম্পদ রক্ষা করতে হবে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে। এটাই শেষ কথা।
সভায় টাঙ্গুয়ার হাওরের দীর্ঘ ১৪ বছরের সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার       সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেন কেউ কেউ। হাওরে অবাধে গাছ, মাছ, পাখি নিধনের কথা বলা হয়। এর সঙ্গে হাওরে সহব্যবস্থাপনায় থাকা কমিউনিটি গার্ড ও আনসার সদস্যদের যোগসাজস আছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরোনো দিনে আমরা ফিরতে চাই না। এখন থেকে হাওরের সম্পদ কেউ নষ্ট করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারাই হাওরে কাজ করছেন তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। যার যার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। কেউ ছাড় পাবে না।’
সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইইউসিএনের কর্মকর্তা পাখি গবেষক এ বি এম সারোয়ার আলম। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে ২১৯ প্রজাতির পাখি আছে। কিন্তু নানা কারণে পাখি আসা কমছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইনুর আক্তার, জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহেদুল হক, টাঙ্গুয়ার হাওরে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাকিল আহমেদ, টাঙ্গুয়ার হাওরে আইইউসিএনের প্রকল্প সমন্বয়কারী ওয়াহিদুজ্জামান, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদ, সাংবাদিক পঙ্কজ কান্তি দে, অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, হাওরে সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান, টুরিস্ট গাইড অখিল দাস প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিকভাবে রামসার সাইট হিসাবে ঘোষণার পর ২০০৩ সাল থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হাওরের সম্পদ পাহারায় আছেন ২৪ জন আনসার সদস্য। পাশাপাশি আইইউসিএন হাওরের উন্নয়নে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।