টানা বৃষ্টিতে আউশের ভালো ফলনের সম্ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রায় ১৬শ একর জমিতে আউশ ধান রোপণ করা হয়েছে। এ সময় টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় খুশি কৃষকরা। তারা জানান, এই বৃষ্টির কারণে আউশ ধানের ফলন ভালো হবে। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, শ্রীপুর উত্তর ও বালিজুড়ি ইউনিয়নে এ বছর ১৬শ একর আউশ ধানের জমি চাষাবাদ করা হয়। এর মধ্যে বাদাঘাট ইউনিয়নে রয়েছে ৮শ একর ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে রয়েছে ৪শ একর, বালিজুড়ি ইউনিয়নে ২শ একর এবং উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে ২শ একর।
পুরান লাউড় গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, আউশ ধান জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণ করা হয় এবং শ্রাবণ মাসে কাটা হয়। তাহিরপুরে আউশ ধান রোপণ প্রায় শেষ। কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এবার আউশ ধানের ফলন খুবই ভালো হবে।
বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউড় গ্রামের মিজাজ আলী জানান, তিনি ৪ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমিতে আউশ ধান আবাদ করেছেন। এ জমিতেই তিনি পর্যায়ক্রমে বোরো, আউশ ও আমন ধান চাষ করে থাকেন। এ দিয়ে তিনি তার পরিবারের যাবতীয় খরচ মিটিয়ে থাকেন। বৃষ্টির পানি আউশের ফলনের জন্য ভালো।
একই ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের আবুল কালাম বলেন, তার এক একর জমি রয়েছে। এতে তিনি এ বছর আমন ধান চাষ করার পর গম চাষ করেন। এ বছর কৃষি প্রণোদনা হিসেবে তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তার জমিগুলোতে আউশ ধান রোপণ করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, উত্তর শ্রীপুর ও বালিজুড়ি ইউনিয়নের ৪শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, আউশ ধান উৎপাদনে পোকা-মাকড়ের ঝামেলা কম। এছাড়াও সেচের কোনো প্রয়োজন হয় না। তাই কৃষকরা উফসী আউশ ধান রোপণে বেশি লাভবান হন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, চলতি বছর তাহিরপুর উপজেলায় কৃষি প্রণোদনা হিসাবে ৪’শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে আউস ধানের বীজও সার বিতরণ করা হয়েছে।