টেকেরঘাট টু বড়ছড়া, প্রাণ বাঁচাতে অজানার পথে

সালেহ আহমদ আলমগীর
(৫)
পরের ক’টা দিন গায়ে জ¦র নিয়ে শুয়ে বসে কাটালাম। রুচি নেই, খেতে পারছি না। শরীর বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। একদিন দুপুরবেলা আনোয়ার চাচা এলেন আমাদের এখানে। আনোয়ার চাচা হচ্ছেন দিরাই থানার গচিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত চৌধুরী বাড়ির দেওয়ান আনোয়ার রাজা চৌধুরী। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় আব্বা দিরাই থানায় সরকারি ডাক্তার ছিলেন। সেই থেকে তাঁদের মাঝে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আনোয়ার চাচারই ছোট ভাই বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও কার্টুনিস্ট ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক জনাব সালেহ চৌধুরী (বর্তমানে আমাদের মাঝে আর নেই)। এপ্রিল মাসে সালেহ চৌধুরী সাহেব সম্পুর্ণ নিজ উদ্যোগে দিরাই থানার অস্ত্র দখল করে নিয়ে তাঁর এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। সাব-সেক্টর হিসাবে টেকেরঘাটের কার্যক্রম আরম্ভ হলে দিরাই অঞ্চলের যোদ্ধাদের সংগঠিত করে তাঁদের নিয়ে এখানে চলে আসেন এবং সেই থেকে একজন সাহসী যোদ্ধা ও দক্ষ সংগঠক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। আনোয়ার চাচা জানালেন বড়ছড়ায় তাঁদের দুই ভাই-এর পরিবারের একটা বাসস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এদিকে টেকেরঘাটে আমাদের বাসাটা মহিলা ও ছোটদের অবস্থানের জন্যে এখনও নিরাপদ নয়। কাছাকাছি সুবিধাজনক তেমন স্থাপনাও পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ ডাক্তারকে তো কাছে-পিঠেই রাখতে হয়। এ’রকম একটা অবস্থায় সাব-সেক্টর কর্তৃপক্ষ চাচাদের সাদর আগ্রহে চাচাদের সাথেই আমাদেরও থাকার ব্যবস্থা করেছেন। চাচা এসেছেন আমাদেরকে নিয়ে যেতে। এমন একটা আয়োজনের বিষয়ে গত দু’দিনে কিছুটা জানা থাকায় আমরাও মোটামুটি প্রস্তুত ছিলাম। ওইদিন চাচার সঙ্গেই নাকি পরদিন দুপুরের দিকে, ঠিক মনে পড়ছে না, বুড়ো নানার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড়ছড়া রওয়ানা হলাম। সামান্য এই ক’টা দিনেই ভিনদেশের ভিন্ন সংস্কৃতির এই বৃদ্ধ মানুষটির সাথে আমাদের বেশ ভাব হয়ে গিয়েছিল। আমাদের এ দুঃসময়ে তিনি যেভাবে আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন তার কোনো মূল্য হয়না, কোনো কিছুতেই তার বিনিময় হয় না। আজও তাই স্মৃতির অ্যালবামের বিশেষ একটা জায়গা জুড়ে আছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ আর টেকেরঘাট প্রসঙ্গ এলেই লাকমাছড়ার গারো-বাড়ির কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে আনন্দ্ মারাক নামের বিশাল হৃদয়ের সেই মানুষটির কথা।
টেকেরঘাটে না থেমে, বড়ছড়া বাজার পেরিয়ে বিকেলে সেই বাসস্থানে পৌঁছালাম। বাসস্থান বলতেÑ বড়ছড়ার পুরোনো পুলিশ স্টেশন এ’টি। বি.এস.এফ. ক্যাম্পের ঠিক নিচে ছোট একটা টিলার উপরে টিনশেডেড পাকা একটা ঘর। নতুন ভবন তৈরী হওয়ার পর থানার কাজকর্ম নতুন ভবনেই চলছে। সেই থেকে পরিত্যক্ত পড়ে ছিল এ ঘরটি। কিছু পুরোনো ফার্নিচার-টার্নিচার ছিল। ওগুলো সরিয়ে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। মাঝখানে লম্বাটে সরু একটা রুমের দু’পাশে মাঝারি আকারের দুটি রুম নিয়ে মোটামুটি বড়ই ঘরটি। এখন থেকে আমাদের ‘বাসা’। চাচাদের পরিবার রইলেন পশ্চিম পাশের রুমটায়। পাশের বারান্দাটুকুতে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে বিপতœীক আনোয়ার চাচার জন্য একটা চৌকি পাতা হলো। অন্য দুটি রুমে উঠলাম আমরাÑ তিন কন্যাসহ খালা এবং আব্বা আম্মা সহ আমাদের পাঁচ ভাই বোন। ডাক্তার মামা ও জালাল মামা ‘চার নম্বরের’ অফিসার মেসেই থাকেন, রাত বেশী হয়ে গেলে কিংবা আবহাওয়া খুব খারাপ থাকলে মাঝেমধ্যে এখানেও থেকে যান। ছোট দুই মামার বড়জন, মো. মঈনুল হক, ইতোমধ্যে ট্রেনিং শেষ করে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। আর ছোটজন, মো. হাবিবুল হক, কিছুদিন আমাদের সাথে থেকে বালাট শরণার্থী শিবিরের ইওথ-ক্যাম্পে চলে গেছেন। ঘরের সামনে ছোট্ট একটা উঠোন। পেছন দিকে বাইরে কমন রান্নাঘর, একটু দূরে কমন শৌচাগার। তার পেছনে গাছ পালা জঙ্গল সহ টিলার ঢাল গিয়ে মিশেছে বি.এস.এফ. ক্যাম্পের টিলার সাথে। আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করলামÑ ভয়াবহ সেই রাতে এই টিলাটার পাশেই একটু নিচে ছোট ছড়ার পাড়ে প্রথম আশ্রয় নিয়েছিলাম। মেশিনগানের শেলিং শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। ভাগ্যের কী পরিহাস, সে রাতে মাথার উপর একটা আড়াল বা আচ্ছাদন খুঁজে পাইনি, আর আজ পরম করুণাময় একটা ঘরই পাইয়ে দিয়েছেন। টেকেরঘাট থেকে প্রাণের মায়ায় দেশান্তরী হয়ে লাকমাছড়া ঘুরে বড়ছড়ায় এসে স্থিতু হলাম। শুধু একটা রাত নয়, জানি না আর ক’টা রাত ক’টা দিন এই ঘরে থাকতে হবে। সেটা কেবল তিনি জানেন, তিনিই যে সর্বজ্ঞানী।
সাত মাসের গল্প তো আর এত স্বল্প পরিসরে শেষ হওয়ার নয়, তাই সে প্রচেষ্টাও ছিল না, কমবেশী সাত দিনের ঘটনার বর্ণনাই ছিল এই উপস্থাপনায়। তাছাড়া শিরোনাম বিবেচনায়ও এ’পর্যায়ের গল্প এখানেই শেষ করা সঙ্গত। তারপরও গল্পের একটা রেশ থেকে যায়, সেই রেশ ধরেই এবার দু-চারটি কথা। ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলাম এ বাসাটিতে। মিলেমিশে দুটি পরিবার একান্নবর্তী পরিবারের মতো কাটিয়েছি সে দিনগুলো। হিসেব করলে প্রায় তিন মাস। এ সময়টাতে যুদ্ধ যুদ্ধের মতো এগিয়েছে, বড়রা তাঁদের কাজ করে গেছেন তাঁদের মতো করে। সাড়ে তের বছরের এক কিশোরের জীবনে ওসবের তেমন প্রভাব পড়ার কথা নয়, পড়েওনি। তার জীবন ঘুরপাক খেয়েছে পারিবারিক গন্ডীর ভেতর। আব্বা খূব উদ্বিগ্ন ছিলেন আমাদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে। লেখাপড়ায় ভালই ছিলাম। দুই ভাই সুনামগঞ্জ জুবিলী স্কুলে পড়তাম। আমি ক্লাশ নাইনের ফার্ষ্টবয় আর ছোটভাই সেভেনের সেকেন্ডবয়। যুদ্ধ চলাকালীনই ক্লাশ এইটের বৃত্তি পরীক্ষার ফল বেরোয়। সেবার জুবিলী স্কুল থেকে শুধু আমিই বৃত্তি পেয়েছিলাম। হেডস্যার নাকি আমাদের দু’ভাইকে স্কুলের হোস্টেলে পাঠিয়ে দিতে আব্বার কাছে খবর পাঠিয়েছিলেন, যাতে আমাদের পড়াশোনাটা অব্যাহত থাকে। আমাদের বাসার সামনে বড়ছড়া বাজারের পাশে বেশ কিছু বাংলাদেশী পরিবার বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তাঁদের একজন ছিলেন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের কেমিস্ট্রির প্রফেসার। আব্বা তাঁর কাছে আমাদের দুই ভাই-এর পড়ার ব্যবস্থা করলেন, যাতে অন্তত লেখাপড়ার অভ্যেসটা বজায় থাকে। তাঁর বাসায় পড়ার সময়টা খুব ভাল কাটত। স্যার খুব যতœ নিয়ে আদর করে পড়াতেন। সে যুগের সব শিক্ষকরাই বোধহয় ওরকম ছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা সংক্রান্ত অন্য একটা আতঙ্ক ততদিনে ধীরে ধীরে দানা বাঁধছিল। আব্বা শিলং-এর এক কনভেন্টের সাথে কথাবার্তা প্রায় ঠিক করে ফেলেছেন। সামনের জানুয়ারী সেশনে দুই ভাই কনভেন্টে চলে যাব। এ ব্যাপারটা মনের ভিতর দুর্ভাবনার একটা জায়গা তৈরী করছিল। সৌভাগ্য আমাদের, সে পর্যন্ত আর যেতে হয়নি।
সুনামগঞ্জ মুক্ত হলে আব্বা সুনামগঞ্জে ফিরে গিয়ে তাঁর সরকারী কর্মস্থল টি.বি. ক্লিনিকে যোগ দেন, পরিবারের অন্যরা ফিরি ডিসেম্বরের শেষ দিকে। সরকারী কাজের পাশাপাশি পরবর্তী বছরগুলোতেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকেছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন, বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁদের অনেকে আব্বার কাছ থেকে যুদ্ধাহতের প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন। সুনামগঞ্জে স্থানীয় উদ্যোগে ‘মুক্তিসংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্ট’ গঠিত হলে ট্রাস্ট্রের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং পরবর্তিতে মুক্তিযোদ্ধাগণের সঙ্গে নিবিড় ভাবে সম্পৃক্ত থাকার পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকারী তালিকায় তাঁর নাম উঠেনি। ২০১২ সালের ১০ জুন তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। জীবদ্দশায় তাঁর মনে কোন অভিমান ছিল কি না জানি না, তবে এ নিয়ে কোন অনুযোগ প্রকাশ করতে দেখিনি কখনও। তাঁর প্রতি এ অসম্মান আর অবহেলা সন্তান হিসেবে আমাদেরকে খুব কষ্ট দেয়। এ কথাগুলো আজকের গল্পের বিষয় নয়, সে এক ভিন্ন প্রসঙ্গ। এসব কথা বলতেও এখন খুব লজ্জা পাই, নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।
সেদিন প্রাণের মায়ায় মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন ভিনদেশে। অসহায় এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ভিনদেশের মানুষরাও। চেনা জানার বাইরে, শুধু মানুষ পরিচয়েই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। লাকমাছড়ার নানার কথাই ধরা যাক। হয়তো রোগী হিসেবে আব্বার সাথে পরিচয় ছিল তাঁর। এর বেশী কিছু তো নয়। অথচ আমাদেরকে আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে দিলেন। আমি যতদূর জানি, কোনো টাকা পয়সার বিনিময়ে তিনি এটা করেননি। বড়ছড়ায় কোনো শরণার্থী শিবির ছিল না। ছোট্ট একটা জায়গা, স্থানীয়দের চেয়ে এ পাড়ের মানুষের সংখ্যাই বেশী হয়ে গিয়েছিল তখন। বুঝতে অসুবিধা হয় না, জনসংখ্যার এই বাড়তি চাপ ওদের সমাজ-সংসারকে কতটা বিপর্যস্ত করেছিল। কষ্ট হলেও মেনে নিয়েছেন, কাউকে ফিরিয়ে দেননি তাঁরা। বিপরীত চিত্র যে একেবারেই ছিল না তা’ নয়। কেউ কেউ তাঁদের নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপনের ভেতর আমাদেরকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেছেন, মাঝে মাঝে চরম বিরক্তি প্রকাশেও বিরত থাকেননি। আমাদের বাসার একটু সামনে ব্যাডমিন্টন খেলতেন কয়েকজন স্থানীয় সরকারি চাকুরে। এক বিকেলে তাঁদের খেলার সময় ব্যাডমিন্টন কোর্টের পাশে আমরা ছোটরাও খেলছিলাম। আমার সাথে ১০-১২ বছর বয়সের আরও ক’জন। কোনো উপকরণ ছাড়া খেলা মানেই তো দৌড়াদৌড়ি আর চেঁচামেচি। এতে ব্যাডমিন্টন খেলায় ওঁদের অসুবিধা হচ্ছিল। সে অপরাধে আমরা ভাল রকম বকুনি খেলাম এবং বকুনির এক পর্যায়ে তাঁরা তাচ্ছিল্য ও ঘৃণাভরে ‘রিফিউজি’ শব্দটা ব্যবহার করলেন। তাঁদের বলার ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল, ওই একটি মাত্র শব্দই যেন আমার আকৈশোর লালিত আত্মপরিচয়টুকু ছিনিয়ে নিল। আঁকড়ে ধরার জন্য এতদিনের চেনা পরিচয়টাকে আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমাকে অস্তিত্বহীন বানিয়ে রেখে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। কী আমার পরিচয়? কোথায় আমার সাকিন? বাংলাদেশী হতে পারিনি তখনো, ওঁরা পাকিস্তানি কিংবা বাঙ্গাল বলতে পারতেন। না হয় ধর্মীয় পরিচয়টাই উচ্চারণ করতেন। সেগুলো বাদ দিয়ে, ‘রিফিউজি’ পরিচয়টাকেই সামনে আনতে হলো? বাস্তুহারাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এ বিষয়টি সম্পর্কে ওঁদের নিশ্চয়ই কোনও ধারণা ছিল না। না থাকারই কথা। তাই হয়তো না জেনে-বুঝেই বলে ফেলেছেন। সময়টাই ছিল ওরকম। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে মানসিক যাতনার এসব ছোটখাটো বিষয় বড় করে দেখলে কি চলে?। দুর্ভিক্ষ, মহামারি বা যুদ্ধের মতো মানবিক বিপর্যয় গভীর ক্ষত রেখে যায় সমাজে, পরিবারে এবং অবশ্যই ব্যক্তি-মানসে। আর মানুষটি যদি হয় একটি শিশু বা কিশোর তাহলে তো কথাই নেই, এর প্রলম্বিত প্রভাব পড়ে তার মনোজগতে। কেতাবি কথা এগুলো, সবাই জানেন। জীবনে চুড়ান্ত বলে কোথাও কিছু নেই। ভাল মন্দ মিলিয়েই সবকিছু। কিন্তু মানুষের স্বভাবটাই এমনÑ ভাল কিছুর তুলনায় মন্দটাই তাকে তাড়ায় বেশী, বেশী কাঁদায়, ক্ষত রেখে যায় দীর্ঘস্থায়ী। তারপরেও সব কিছু মিলিয়ে, মানুষ মানুষের জন্যÑ এ কথাটাই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে দিন শেষে।
কৈশোর হচ্ছে জীবনের এক অভাগা সময়। এ বয়সে চারপাশের সবকিছুই সে দেখে, নিজের মত করে অনেক কিছু বুঝেও নেয়। তার সব বোঝাই হয়তো সঠিক নয়, এটাও সে জানে। তাই তো সামান্যই সে প্রকাশ করে। আর বাকিটুকু আগলে রেখে দেয় নিজের ভেতর, দ্বিধায় জড়িয়ে। কিশোরবেলার ওই দিনগুলোতে আমার যত দেখা, ভবানা আর উপলব্ধির মূল্যায়ন হবে এই কথাগুলোর নিরিখে, অন্য কোনও দৃষ্টিতে নয়Ñ এমনটাই প্রত্যাশা করি।
পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা এসব। যে মানুষগুলোর কথা বলা হলো এঁদের বেশীর ভাগই আজ আর আমাদের মাঝে নেই। জায়গাগুলোকে যেভাবে দেখেছি, আজ আর তেমনটি দেখাবে না জানি। কাল-পরিক্রমায় সবকিছুই হারিয়ে গেছে, নয়তো বদলে গেছে, বাস্তবে অবিকল আর ফিরে পাওয়ার নয়। তবে স্মৃতির ভান্ডারে সবকিছুই রয়ে গেছে অটুট অমলিন। ভাবলেই মনে হয়, এই তো সেদিন। জীবনের দুঃসময়ে জীবন নোঙড় ফেলেছিল খাসিয়া-জয়ন্তীয়া পাহাড়ের পাদদেশে। মেঘালয়ের বড়ছড়া ও লাকমাছড়া নামের দুটুকরো ভূমি এবং ভূমিসন্তানগণ, তোমাদের আশ্রয় ছিল বলেই অতিক্রম করা গেছে জীবনের কিছু ক্রান্তিলগ্ন। তোমরা সহায় ছিলে বলেই বহতা জীবন খুঁজে পেয়েছে তার আরাধ্য ধারা। এ সত্য তো কখনো মিথ্যা হবার নয়।
লেখক : চিকিৎসক