বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট স্থাপনের জন্য জমি নির্বাচন করা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ আব্দুল মজিদ কলেজের পাশে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার উল্টোদিকে এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বস্ত্র পরিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জমি নির্বাচনের কথা জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপিকে গত পহেলা ফেব্রুয়ারি দেওয়া ডিও লেটারে উল্লেখ করেছেন- ২০২১ সালে বাংলাদেশে টেক্সটাইল সেক্টরে দুই লাখ ৭০ হাজার দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। কিন্তু বর্তমান এই কাজের জনবল তৈরির জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান চালু আছে, সেসব প্রতিষ্ঠান হতে ৮৭ হাজার ৯৫০ জন কর্মী বের হবে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সারা দেশে পর্যায়ক্রমে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট, টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ও টেক্সটাইল কলেজ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের একটি পশ্চাৎপদ অঞ্চল। এ অঞ্চলে ইতোপূর্বে কোন টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হয়নি। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে আরো ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এবং এই এলাকার শিক্ষার্থীদের মেধাকে বিকশিত করে দেশের উন্নয়নের কাজে অংশীদারিত্ব করার জন্যে সুনামগঞ্জ জেলায় একটি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রীকে এই বিষয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এই ডিও লেটার পাঠানোর পর বস্ত্র পরিদপ্তরের পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সুনামগঞ্জ জেলায় বস্ত্র পরিদপ্তর একটি টেক্সটাইল ইনস্টিউট স্থাপন করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান। একই সঙ্গে পিডব্লিউডি’এর রেইট সিডিউল-২০১৪ মোতাবেক কাজের ব্যয় প্রাক্কলণ
নির্ধারণ করে প্রেরণের জন্যও অনুরোধ করেন।
একই তারিখে টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট স্থাপনের জন্য সুনামগঞ্জ জেলায় পাঁচ একর ভূমি নির্বাচন ও সম্ভাব্য মূল্য অবহিত করণের জন্য জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ বরাবরেও চিঠি পাঠানো হয়।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর সিদ্দিক মার্চ মাসেই ইনস্টিটিউটের একাডেমীক ভবন, বয়েজ হোস্টেল, মহিলা হোস্টেল, অফিসার ডরমেটরি, স্টাফ ডরমেটরি, প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার, অফিসার কোয়াটাঁর ও স্টাফ কোয়ার্টারসহ প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণের জন্য ৭৮ কোটি ৩১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে প্রাক্কলন বস্ত্র পরিদপ্তরে পাঠিয়েছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার মো. আজমল হোসেন জানান, টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের জন্য দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার উল্টো জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জে এই ইনস্টিটিউটটি স্থাপনের জন্য বস্ত্র পরিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করছেন সুনামগঞ্জের সন্তান ঢাকার গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী শ্যামল রায়।
ঢাকার লুজিন ফ্যাশন লি.’এর ডিরেক্টর শ্যামল রায় বলেন,‘সুনামগঞ্জ পশ্চাৎপদ জেলা, বেকারত্বের সংখ্যাও বেশি। জেলার বেশিরভাগ মানুষ ৬ মাস কাজ করেন, ৬ মাস বেকার থাকেন। অথচ. এই অবস্থায় এই জেলা থেকে গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করার যোগ্য মানুষ পাওয়া যায় না, যা অন্য জেলার গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা পেয়ে থাকেন। এটি একটি আকাঙ্খা আমাদের রয়েছে, অন্যটি হচ্ছে সুযোগ যেহেতু আছে, সেটি কাজে লাগিয়ে নিজের জেলায় একটি বড় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের চেষ্টা করছি আমরা। টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট হলে জেলার শিক্ষার্থীরা ঐ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নেবে এবং সহজে গার্মেন্টেসে চাকুরি পাবে, এই চিন্তা থেকে মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপিও এই প্রতিষ্ঠানটি করার চেষ্টা করেছেন। আমি ঐ সেক্টরেরই ব্যবসায়ী, লোকবলের সংকটে এখন যেভাবে আমরা ভূগছি, প্রতিষ্ঠানটি হলে ভবিষ্যতে হয়তো ভোগান্তি কমবে’।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইনস্টিটিটিউট স্থাপনের জন্যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং জমি’র সম্ভাব্য মূল্যও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবকাঠামো নির্মাণের প্রাক্কলনও তৈরি করে গণপূর্ত বিভাগ বস্ত্র পরিদপ্তরে পাঠিয়েছে, এখন এক নেকে অনুমোদিত হলেই এই প্রকল্পটি’র কাজ শুরু হবে’।
- উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে দাঁড়াতে হবে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে -এমএ মান্নান
- প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরের নির্বাচন-শেষ মুহূর্তে টাকা ছড়ানোর শংকা


