টোল আদায়ের নামে চলছে জুলুমবাজি

বিশেষ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জের সুরমা নদীর পাড়ের গজারিয়া এলাকায় বিআইডব্লিউটি’এর টোল আদায়ের নামে জুলুমবাজি চলছে। নদীতে ভাসমান ট্রলার থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। ছোট বারকী থেকে বাল্কহেড’এ বালু-পাথর তোলার সময় টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার যে বাল্কহেডে বালু-পাথর তোলা হচ্ছে, সেটা থেকেও টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজী হচ্ছে। বিআইডব্লিটিএ’র টোল তালিকা কোথাও প্রদর্শন করা নেই। শনিবার এক বাল্কহেড চালক অন্যায়ভাবে দাবি করা টাকা না দেওয়ায় চাঁদাবাজরা বাল্কহেড চালকের কাছ থেকে জোর করে দুটি চেয়ার ও বাল্কহেড’এর ঘেরাপি (বাল্কহেড ভেড়ানোর পর আটকে রাখার যন্ত্র) নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি)এর একটি চিঠি দেখিয়ে গত জুলাই মাস থেকে সুরমা নদীর গজারিয়া এলাকায় ইচ্ছামাফিক টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। যুবলীগ নেতা পরিচয়ধারী ইয়াকবির হোসেন নদীর এই অংশের ইজারাদার। তারা গজারিয়া ঘাটসহ আশপাশের কোথাও টোল তালিকা সাঁটায়নি। কাউকে চাইলেও টোল তালিকা দেখাচ্ছে না এমন অভিযোগ বাল্কহেড মালিক, চালক ও শ্রমিকদের।
স্থানীয় শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম ও বাদল মিয়া জানিয়েছেন, একটি বাল্কহেড’এর মালিক শনিবার বিআইডব্লিউটিএ’র নির্ধারিত প্রতি ফুট বালু’র ইজারা ২৫ পয়সা হিসাবে ১১ শ’ টাকা দেবার পরও টোল আদায়কারীরা বাল্কহেড চালককে গালিগালাজ করে দুটি চেয়ার এবং তার বাল্কহেড’এর ঘেরাপি নিয়ে গেছে।
স্থানীয় শ্রমিক নেতা এমদাদ হোসেন জানালেন, গজারিয়া এলাকায় বালু-পাথর
লোড-আনলোড’এ হাজার খানেক শ্রমিক কাজ করে। এখানকার এই বালু-পাথর লোড আনলোড’এর জন্য একটি বাজারও গড়ে ওঠেছে। যেভাবে অত্যাচার চলছে, এখানে কোন বাল্কহেড আসবে না। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান থাকবে না। বাজারও থাকবে না। বাল্কহেড চালকরা গত কয়েকদিন হয় জানিয়ে দিচ্ছে, তারা গজারিয়া এলাকা থেকে বালু-পাথর নেবে না। দুই কিলোমিটার ভাটি এলাকায় বাল্কহেড বা ট্রলার ভিড়ালে চাঁদা দিতে হয় না। তারা ওখানেই ভিড়াবে।
এই অত্যাচারের প্রতিবাদ করলে ইজারাদার থানা পুলিশের ভয় দেখায়। কয়েক দিন আগে জামালগঞ্জ থানার ওসি সাহেব আমাদের ডেকে নিয়ে বলেছেন, আমরা যেন টোল আদায়ের বিরোধিতা না করি। আমরা এখন কোথায় যাই।
জামালগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানালেন, ইজারাদার ইয়াকবির হোসেন বিআইডব্লিউটিএ’র একটি ইজারা’র কাগজ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, শ্রমিকরা ইজারা তুলতে বাধা দিচ্ছিলেন। আমরা বলে দিয়েছি, বিআইডব্লিটিএ’র টোল তালিকা টাঙানোর জন্য। ইজারাদার টোল তালিকা না টাঙালে বা নিয়মমাফিক টোল আদায় না করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
সুরমা নদীর গজারিয়া এলাকার আইন-শৃঙ্খলা দেখভালের দায়িত্ব লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি’র।
লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি’র সাবইন্সপেক্টর রুহুল আমিন’এর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাড়িতে এসেছি। ফিরেই টোল তালিকা টাঙানোর ব্যবস্থা করবো। ভাসমান কোনো নৌ-যান থেকেও টাকা আদায় করতে দেওয়া হবে না।
ইজারাদার ইয়াকবির হোসেন বললেন, জুলাই মাস থেকে বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে সুরমা নদীর গজারিয়া এলাকায় টোল আদায়ের ইজারা এনেছি। এতোদিন সামান্য সামান্য আদায় হয়েছে, টোল তালিকার সাইনবোর্ড টাঙানো হয় নি। এখন কিছু আদায় হচ্ছে, আমরা কয়েক দিনের মধ্যেই সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেব। আমাদের লোকজন কারো চেয়ার, ঘেরাপি আটকায় নি। ওখানে সোলায়মান. মঞ্জু, জয়নাল ও কামরুল নামের ৪ জন গজারিয়া ফেরীঘাট ইজারা নিয়েছে। এরা বেশি টাকা আদায় করছে। মানুষকে টোল আদায়ের নামে নির্যাতন করছে।
ফেরীঘাটের ইজারাদার সোলায়মানের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিআইডব্লিটিএ’র নির্ধারিত টোল আদায় করছি। তারা (ইয়াকবির হোসেন ও তার লোকজন) ভাসমান বাল্কহেড, ট্রলার থেকে টাকা নিচ্ছে। লোড-আনলোডের ট্রলার-বাল্কহেড থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করে জুলুম করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটি’এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মুঠোফোন রিসিভ না করায় এই বিষয়ে ওই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংযুক্ত করা যায় নি।