স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের এক প্রকৌশলী ঠিকাদার কর্তৃক লাঞ্ছিত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে দ্বিতীয় দফায় আবারো গত বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে তার শারীরিক অবস্থা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। লিখিত আবেদনের কপি গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীসহ পুলিশ সুপারকেও পাঠিয়েছেন। লাঞ্ছিত উপ-সহকারী প্রকৌশলীর নাম আব্দুর রহিম। অভিযুক্ত ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, ‘জামানতের টাকা চাইতে গিয়ে ঘুষ দাবি করায় প্রকৌশলীর সঙ্গে তাদের কেবল ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে’।
প্রকৌশলী আব্দুর রহিম গণপূর্তের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন গত ২৩ নভেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হালুয়ারগাঁওয়ের টিটিসি প্রকল্পের সাবস্টেশনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ তদারকি করছিলেন তিনি। এসময় ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম দুটি জামানত ফরমে স্বাক্ষর করার কথা বলেন। তিনি অফিসে এসে সবকিছু দেখে স্বাক্ষর করার কথা বলায় তাকে মারপিঠ করা হয়। এ ঘটনায় শহরের আরপিননগরের ঠিকাদার শফিকুল ইসলামসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে তিনি সুনামগঞ্জ সদর থানায় জিডি করেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন-আপ্তাব নগরের জুনেদ আহমদ ও আরপিন নগরের সুয়েব আহমদ।
প্রকৌশলী আব্দুর রহিম গত ৮ ডিসেম্বর দেওয়া দ্বিতীয় চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ঠিকাদার কর্তৃক প্রহৃত হলেও গণপূর্তের সুনামগঞ্জ অফিস থেকে এখনো (১৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের কাছে আমি ৩ লাখ টাকা পাই। এই টাকার বিপরীতে তিনি চেক দিয়ে রেখেছেন। পাওনা টাকা চাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ। এছাড়া আমার একটি জামানতের বিলে তাকে স্বাক্ষর দিতে বলায় তিনি ঘুষ দাবি করেন। এ নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি’।
গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনার পর দুই পক্ষই থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি পুলিশে গড়িয়েছে। উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম আমার কাছে নয়, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছে লিখিত দিয়েছেন। তিনি এমন আঘাত পেয়েছেন, আমি জানতাম না। বৃহস্পতিবার জেনেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব আমরা’।


